ঢাকাই সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় দম্পতি ওমর সানী ও মৌসুমী। ১৯৯৬ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। সুখে-শান্তিতে দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে সংসার করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি শুরু হওয়া এক বিতর্কে ভক্তদের মনে আশঙ্কা, চিড় ধরেছে সানী-মৌসুমীর সম্পর্কে!
সেই আশঙ্কা আরও বেশি পোক্ত হলো মৌসুমীর একটি অডিও বক্তব্যে। জায়েদ খান ও ওমর সানীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব-লড়াই ইস্যুতে জায়েদ খানের পক্ষ নিয়েছেন মৌসুমী। বলেছেন, জায়েদ খান ভালো ছেলে, সে তাকে কোনো অসম্মান করেনি। এরপর ফেসবুক লাইভে এসে এ নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন ওমর সানী। জানান, তার ছেলে ফারদিন ও মেয়ে ফাইজা এ বিষয়ে সব জানেন।
এবার এ বিষয়ে মুখ খুললেন ওমর সানী-মৌসুমী দম্পতির ছেলে ফারদিন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “তার (জায়েদ খান) বিষয়ে সবাই মোটামুটি জানেন। শুধু আমার আম্মা না, উনি কমবেশি সবাইকে হ্যারাস করে থাকেন। উনি আমার আব্বুর সাথেও বেয়াদবি করেছেন, আম্মুর সাথেও করেছেন। কিন্তু আম্মু ভেবেছেন, বিষয়টা সিভিল ম্যাটার, এটা ফ্যামিলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকুক। আমরা নিজেরাই সলভ করবো।’
ফারদিনের ভাষ্যে, ‘আব্বু আম্মু দুজন চাচ্ছেন যেন বিষয়টা দ্রুত সমাধান হয়ে যায়। ছেলে হিসেবে আমি তো আব্বু আম্মু দুজনকেই চাইবো। দিন শেষে আমার চাওয়া যেন এটা দ্রুত সমাধান হয়।”
ফারদিন আরও বলেন, ‘সত্যি কথা হলো উনি (জায়েদ খান) ডিস্টার্ব করেন। আমি চাইলেও এখন প্রমাণ সবার সামনে হাজির করবো না। উনি আমার ব্যবসারও ক্ষতি করার চেষ্টা করেছেন। এগুলো হয়ত প্রমাণ দিতে পারব না। আমি জানি বিষয়গুলো, পাবলিকলি সব বলবোও না। তবে উনাকে নিয়ে চিন্তায় পড়ে যাবো এমন না। উনাকে এত গুরুত্ব দিচ্ছি না। জায়েদ খান আর রাস্তার ব্যাঙ এক কথা। তাই উনাকে নিয়ে ভাবছি না।’
ওমর সানি-জায়েদ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে শুক্রবার (১০ জুন)। সেদিন বসুন্ধরার কনভেনশন সেন্টারে ডিপজলের ছেলের বিয়েতে জায়েদকে চড় মেরে বসেন ওমর সানি। তখন ক্ষেপে গিয়ে প্রকাশ্যে পিস্তল বের করে ওমর সানিকে গুলি করে দেওয়ার হুমকি দেন জায়েদ।
অনেকদিন ধরেই নাকি মৌসুমীকে বিরক্ত করছিলেন জায়েদ। ওমর সানি এ নিয়ে ডিপজলের কাছে নালিশও দিয়েছিলেন। ডিপজল সানিকে আশ্বস্ত করেছিলেন জায়েদ আর মৌসুমীকে বিরক্ত করবে না। কিন্তু শোধরাননি জায়েদ। তাই তার ওপর রেগে ছিলেন ওমর সানি। সুযোগ পেয়ে চড় মেরে বসেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জায়েদ খান বললেন, ‘পুরো ঘটনাই মিথ্যা ও বানোয়াট। সানী ভাই একটার পর একটা মিথ্যা নাটক সাজাচ্ছেন। এ বিষয়ে মৌসুমী আপার সঙ্গে কথা বললেই সব জানতে পারবেন।’
