স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক: দুই মহাদেশের দুই চ্যাম্পিয়নের লড়াই। তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার কথা। কিন্তু ‘ফিনালিসিমা’ হলো একপেশে! আর্জেন্টিনার আধিপত্যের বিপরীতে আক্রমণ ঠেকানোতেই ইতালির ব্যস্ততা। ফলটাও অনুমান করা সহজ। ইতালিকে উড়িয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের নিশান ওড়ালো আলবিসেলেস্তেরা। ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে লাউতারো মার্তিনেস, আনহেল দি মারিয়া ও পাউলো দিবালার লক্ষ্যভেদে ৩-০ গোলের জয়ে ট্রফি জেতার আনন্দে মাতলো লাতিন চ্যাম্পিয়নরা।
২৮ বছরের ট্রফি খরা গত বছরই কাটিয়েছে তারা। ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপা আমেরিকা জিতেছে আর্জেন্টিনা। তাতে লাতিন আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে ইউরো চ্যাম্পিয়ন ইতালির বিপক্ষে আন্তমহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে নেমেছিল তারা। শক্তিতে আর্জেন্টিনা দেখিয়ে দিলো শুধু লাতিন নয়, ইউরোপেও সেরা। দলের প্রাণভোমরা লিওনেল মেসি গোল পাননি। তবে লাউতারো মার্তিনেসকে দিয়ে প্রথম গোলটি তারই করানো। দিবালার দেওয়া শেষ গোলের উৎসও তিনি। তাছাড়া প্যারিস সেন্ত জার্মেই সতীর্থ গোলকিপার জিয়ানলুইজি দোনারুম্মা বাধার দেয়াল হয়ে না দাঁড়ালে গোল উদযাপন তারাও করা হতো!
স্বপ্নের মতো সময় কাটাচ্ছে আর্জেন্টিনা। দলটি যেন হারতেই ভুলে গেছে! তা নয়তো কী, প্রায় তিন বছর আগে সবশেষ হারের মুখ দেখেছিল দলটি। ২০১৯ সালের কোপা আমেরিকায় ব্রাজিলের বিপক্ষে ২-০ গোলে হারের পর জয় কিংবা ড্র করে মাঠ ছেড়েছে। অপ্রতিরোধ্য আর্জেন্টিনা তাদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ আবারও রাখলো। এ নিয়ে টানা ৩২ ম্যাচ অজেয় লাতিন চ্যাম্পিয়নরা।
দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন ও ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন দুই দল নিয়ে ফিফার এ বিশেষ আয়োজন উপলক্ষ্যে লন্ডনের ঐতিহাসিক ওয়েম্বলি স্টেডিয়াম ছিল পরিপূর্ণ। উপস্থিত হাজার পঞ্চাশেক দর্শককে হতাশ হতে হয়নি।
শুরুটা দারুণ করে আর্জেন্টিনা। প্রথম ১৫ মিনিটে ইতালির ফাইনাল থার্ডে প্রাধান্য বিস্তার করে খেলে লিওনেল মেসির দল। তবে ইতালিয়ান ডিফেন্সের দৃঢ়তায় গোলে শট নিতে পারেনি।
ইউরো চ্যাম্পিয়ন ইতালি গা ঝাড়া দিয়ে বার দুয়েক আক্রমণ চালায় আর্জেন্টিনার পোস্টে। প্রথমে জানকোমো রাসপাদোরির শট ও দ্বিতীয়বার নিকোলো বারেল্লার হেডার ঠেকিয়ে দলকে নিশ্চিন্ত রাখেন আর্জেন্টিনার গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেস।
এরপরই খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজের কাঁধে নিয়ে নেন মেসি। বিশ্বসেরা ফুটবলারকে সামলাতে বেগ পেতে হয় ইতালির দুই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার জর্জো কিয়েলিনি ও লিওনার্দো বনুচ্চিকে।
তাদের কড়া মার্কিংকে ফাঁকি দিয়েই নিজের জন্য জায়গা বের করেন মেসি। রাইট ব্যাক জোভান্নি দি লরেঞ্জোকে বক্সের ডান দিকে বোকা বানিয়ে লাউতারো মার্তিনেসের উদ্দেশে বল ছাড়েন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। আলতো টোকায় ইতালি গোলকিপার জানলুইজি দোন্নারুম্মাকে বোকা বানাতে ভুল করেননি মার্তিনেস।
২৮ মিনিটে লিড নেয়ার পর কিছুটা থিতু হয় আর্জেন্টিনা। সে সুযোগে ইতালি বারকয়েক আক্রমণ চালায়। তবে সেগুলো থেকে গোলে শট নিতে পারেনি তাদের ফরোয়ার্ড লাইন।
প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে আলবিসেলেস্তেদের লিড দ্বিগুন করেন আনহেল দি মারিয়া। বনুচ্চিকে ডজ দিয়ে মার্তিনেসের বাড়ানো ক্রসে দারুণ চিপ করে আনন্দে ভাসান আর্জেন্টিনাকে। ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
বিরতির পর কিছুক্ষণের জন্য আবারও আর্জেন্টিনার ওপর চাপ সৃষ্টি করে ইতালি। এবারও তারা পরিস্থিতির ফায়দা নিতে পারেনি। উলটো আর্জেন্টিনা সুযোগ পেয়ে যায় নিজেদের ছন্দে ফেরার।
৬০ মিনিটে দি মারিয়ার বাঁকানো শট লাফিয়ে সেভ করেন দোন্নারুম্মা। এর দুই মিনিট পর মেসির কর্নারে করা দি মারিয়ার জোরালো ভলিও রুখে দেন ইতালির এ শট স্টপার।
এরপর গোল করার চেষ্টা করেন মেসি নিজে। নিজেদের ডিফেন্স থেকে বল টেনে নিয়ে ঢুকে যান ইতালির বক্সে। তার শট ঠেকিয়ে দলকে নিরাপদে রাখেন দোন্নারুম্মা।
মিনিট খানেকের মধ্যে মেসির বাড়ানো ক্রসে শট নিলেও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি জিওভানি লো সেলসো। ইতালিকে কোনো সুযোগই দিচ্ছিল না আর্জেন্টিনা। ৬০ শতাংশ পজেশন ধরে রাখে আলবিসেলেস্তেরা।
ম্যাচের ইনজুরি টাইমে বদলি হিসেবে নামা পাওলো দিবালার গোলে নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার বড় জয়। এ গোলের উৎসও ছিলেন মেসি। তিনজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে তিনি শট নিলে তা প্রতিহত হয়ে সেটা যেয়ে পড়ে দিবালার পায়ে। নিচু শটে দিবালা সহজেই গোল করেন।
শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের জয় নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার। টানা ৩২ ম্যাচ অপরাজিত থেকে ম্যাচ ও ট্রফি জিতে নেয় তারা।
কোপা আমেরিকা জয়ের এক বছরের মাথায় ওয়েম্বলিতে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শিরোপা উঁচিয়ে ধরে মেসির আর্জেন্টিনা।
