শিক্ষার্থী পায়েল হত্যা: হানিফের চালকসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

নজর২৪, ঢাকা- বাস থেকে ফেলে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইদুর রহমান পায়েল হত্যা মামলায় হানিফ পরিবহনের বাসচালক জামাল হোসেনসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

 

আজ রবিবার (১ নভেম্বর) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামানের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য দুইজন হলেন বাসের সুপারভাইজার জনি ও হেলপার ফয়সাল হোসেন।

 

এর আগে আজ রবিবার (১ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে এ মামলার তিন আসামিকে কারাগার থেকে আদালত হাজির করা হয়। এসময় আদালতের গারদে রাখা হয় তাদেরকে। পরে সকাল সাড়ে ১১টায় তাদেরকে এজলাসে তোলা হয়। বিচারক বেলা পৌনে ১টায় রায় পড়া শুরু করেন। এর পর বেলা ১টা ৩৮ মিনিটে রায় ঘোষণা করেন বিচারক।

 

গত ৪ অক্টোবর এই মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় এ মামলার জামিনে থাকা তিন আসামি আদালতে উপস্থিত হন। পরে আদালত তাদের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর বিচারক রায়ের জন্য ১ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।

 

২০১৮ সালের ২১ জুলাই দিনগত রাতে দুই বন্ধু আকিবুর রহমান আদর ও মহিউদ্দিন শান্তর সঙ্গে হানিফ পরিবহনের একটি বাসে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার পথে রওয়ানা হওয়ার পর নিখোঁজ হন পায়েল। দুইদিন পর ২৩ জুলাই মুন্সীগঞ্জের ভাটেরচর সেতুর নিচের খাল থেকে পায়েলের মরদেহ উদ্ধার করে গজারিয়া থানা পুলিশ।

 

এ ঘটনায় ২০১৮ সালের ২৪ জুলাই পায়েলের মামা গোলাম সরোয়ার্দী বিপ্লব বাদী হয়ে হানিফ পরিবহনের বাসের সুপারভাইজার জনি, চালক জামাল হোসেন ও তার সহকারী ফয়সাল হোসেনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এরপরপর হানিফ পরিবহনের ওই বাসের সুপারভাইজার জনিকে ঢাকার মতিঝিল এবং চালক জামাল হোসেন ও তার সহকারী ফয়সাল হোসেনকে আরামবাগ থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে জামাল হোসেন ও ফয়সাল হোসেন দুই ভাই।

 

গজারিয়া থানা পুলিশ ওই তিনজনকে অভিযুক্ত করে একই বছরের ৩ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলার বিচার কাজ শুরু হলেও পরিবারের আবেদনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ ২০১৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর এক প্রজ্ঞাপনে মামলাটি চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়। এরপর থেকে মামলাটি চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালেই বিচারাধীন ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *