ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কৃষ্ণকুমার কুন্দন ওরফে কেকে মারা গেছেন। মঙ্গলবার রাতে কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আনন্দবাজার পত্রিকা লিখেছে, কলকাতায় গানের অনুষ্ঠান ছিল কেকের। মঞ্চে গান গাওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থ বোধ করেন। তড়িঘড়ি তাকে নিয়ে যাওয়া হয় শহরের প্রথম সারির একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানেই রাত সাড়ে ৯টায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত্যুকালে কেকের বয়স ছিল ৫৪ বছর। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু হয়েছে তার। আকস্মিক মৃত্যুর কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, অনুষ্ঠানের পর কলকাতার পাঁচতারা হোটেলে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় অনুরাগীরা তাকে ছবি তোলার অনুরোধ জানান। তখনই অসুস্থ বোধ করায় এ দিন ভক্তদের নিরাশ করেন তিনি। অসুস্থতা বাড়তেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
কৃষ্ণকুমার কুন্নাথ, যার মঞ্চের নাম ছিল কেকে। ‘পাল’ এবং ‘ইয়ারন’’এর মতো গানের জন্য তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে কিশোর-তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে তার গান। ভারতের বিভিন্ন স্থানে স্কুল-কলেজের বিদায় অনুষ্ঠান এবং নানামুখী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও তার গাওয়া গান শোনা যায়।
কেকের প্রথম অ্যালবাম বের হয় ১৯৯৯ সালে। যথারীতি তা সমালোচকদের দ্বারা প্রশংসিত হয়েছিল। ২০০০ সালের গোড়ার দিকে তিনি প্লেব্যাক গানে কণ্ঠ দেয়া শুরু করেন। নিজস্ব ভঙ্গিমায় বলিউড চলচ্চিত্র অঙ্গনে জনপ্রিয় গানের একটি বিস্তৃত পরিসর গড়ে তোলেন তিনি।
কেকে তার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বলেছিলেন, “একজন শিল্পী যখন মঞ্চে থাকে তখন নির্দিষ্ট একটা শক্তি থাকে। কারও অবস্থা যাই হোক না কেন, একবার মঞ্চে উঠলে, সবকিছু ভুলে যাই এবং কেবল অভিনয় করি।”
হিন্দি, তামিল, তেলেগু, কন্নড়, মালায়লাম, মারাঠি এবং বাংলাসহ অনেক ভাষার গান রেকর্ড করেছেন কেকে।
খুদা জানে, তু হি মেরি শাব হ্যায়, আওয়ারাপন বানজারাপন, তারাপ তারাপ, দিল ইবাদাত, তুহি হাকিকাত, হালে দিল, ও মেরি জান, হাম দিল দে চুকে সানাম, তুম মিলেসহ জনপ্রিয় অনেক গানে কন্ঠ দিয়েছেন গুণী এই শিল্পী।
