আমি বিশ্বাস করি সুদিন ফিরবে: নায়িকা নূতন

ঢাকাই সিনেমার এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নূতন। এফডিসিতে ছিল তার তুমুল কর্মব্যস্ততা। এখন অভিনয়ে নিয়মিত নন, এফডিসিতেও তেমন আসেন না। সবশেষ শিল্পী সমিতির নির্বাচনে দেখা গেছে তাকে।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন নূতন। বর্তমানে চলচ্চিত্রে নিয়মিত না হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সক্রিয় এই নায়িকা।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুকে পেজে নূতন লিখেছেন, আমি যখন চলচ্চিত্র নায়িকা হিসেবে পরিচিত, তখন আসলে টিভিতে মুখ দেখানোই ছিল বিশাল ব্যাপার। আর ছবি- সিনেমা হলের নায়িকা মানে আকাশের তারার চেয়ে কম না বা সাক্ষাৎ তারাই বলা চলে।

যাইহোক, আমি আমার বিয়ের পরে যখন প্রথম রাজশাহীতে শ্বশুর বাড়ি যাই, যাওয়ার ১/২ ঘণ্টার মধ্যে চার/পাচ গ্রাম এক হয়ে গেল যে, ‘নায়িকা নূতন আসছে’। আমার আবার দুপুরে অল্প সময় ঘুমানোর একটা অভ্যাস আছে।

আমি ক্লান্ত হয়ে, খেয়ে দুপুরে ঘুমের মধ্যে হটাৎ লাফ দিয়ে উঠে পড়ি, দেখি আমার মুখের উপরে শুধু মুখ আর মুখ। মানে সবাই সবার উপরে উঠে বা যেভাবে দেখা যায় স্বচক্ষে দেখা, কেহ আবার ভয়ে ধরে না।

৩/৪ দিন ছিলাম, সেই ৩/৪ দিন বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ আর মানুষ। কেহ একটু ধরে দেখবে, কেহ আবার বিশ্বাস করে না আমি কি হলের সে কিনা? আবার কেহ বলে সাপ হয়ে যান। কেহ বলে নায়িকা নূতনের মতোই লাগে। যা এখনো অনেকে বলে। বা ফেসবুকে বলে আপনি কি আসল নায়িকা নূতন?

আমার তখন মনে হতো যে সারাজীবন আমি মনে হয় এমন হাজারো মানুষের মধ্যে থাকবো। কিন্তু না। যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের চাহিদার, চিন্তার পরিবর্তন হয়। আস্তে আস্তে চলচ্চিত্রের পরিধি ছোট হতে থাকে, মানুষের কাছে ব্যাপারগুলো স্বাভাবিক হতে থাকে, কিছু ক্ষেত্রে সহজ হতে হতে একটা সময় অনেক বেশি সহজ হয়ে গেল, ২০০০ এর পর থেকে।

ফেসবুক আসার পর থেকে সবাই নায়ক-নায়িকা। এখন এ পর্যায়ে এসে ভাবি, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শিল্পী আর চলচ্চিত্র টিকে থাকলে, হল থাকলে বোঝা যেত যে, এই দেশের মানুষ কীভাবে ভালোবাসতে পারে। এই দেশের মানুষ খারাপ জানতে সময় লাগে না। তবে ভালোবাসলে জীবন উজাড় করে দিয়ে দেয়।

যদিও নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করি যে, সোনালী দিনের নায়িকা, মানুষের অনুভূতি সরাসরি উপভোগ করার সৌভাগ্য আমার আমাদের হয়েছে। সেই দিন, সেই পরিবেশ, সেই চিন্তা, সেই চলচ্চিত্রকে অনেক মিস করি। সেই দিন আর হয়তো ফিরে আসবে না, তবে চলচ্চিত্রের সুদিন ফিরে আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *