বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আরও সিনেমা হতে পারে: শ্যাম বেনেগাল

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল সিনেমা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বায়োপিক ‘মুজিব: দ্য মেকিং অব আ ন্যাশন’। যেটি নির্মাণ করেছেন ভারতের খ্যাতিমান পরিচালক শ্যাম বেনেগাল। সম্প্রতি সিনেমাটির ট্রেলার প্রকাশিত হয়েছে। বিখ্যাত কান চলচ্চিত্র উৎসবের বাণিজ্যিক শাখায় এর ট্রেলার উন্মোচন করা হয়। কিন্তু ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে সিনেমাটি নিয়ে।

বঙ্গবন্ধু রূপে আরিফিন শুভর অপরিপক্ব অভিনয়, অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিভিন্ন দৃশ্য ও সম্পাদনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ১ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের ট্রেইলারটি প্রকাশের পর থেকে নেতিবাচক মন্তব্যে যেন ফেসবুক সয়লাব হয়ে গেছে। তবে খুব কম হলেও কিছু দর্শক আবার এর প্রশংসাও করেছেন।

যে বিষয়গুলো নিয়ে সমালোচনা হয়েছে সেগুলো সম্বন্ধে সিনেমার পরিচালক শ্যাম বেনেগালের মতামত জানতে তার সঙ্গে ই-মেইলে যোগাযোগ করে একটি গণমাধ্যম। শনিবার প্রশ্ন পাঠানোর পর এ বর্ষীয়ান পরিচালক উত্তর দিয়েছেন সোমবার দুপুরে।

প্রশ্ন-উত্তরের বাইরেও শ্যাম বেনেগাল সমালোচনা নিয়ে জানিয়েছেন তার নিজের মত।

শ্যাম বেনেগাল বলেন, ‘সবাই যদি অসন্তুষ্ট থাকেন, সে ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আরও সিনেমা বানানো যেতে পারে। এটাতে কোনো বাধা নেই বা কেউ বাধা দেয়নি। তার মতো বড় মাপের মানুষের বহুমুখী ব্যক্তিত্বকে তুলে ধরার জন্য একটি নয়, বরং বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র প্রয়োজন।’

ইউটিউবে প্রকাশিত ১ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের ভিডিওটি প্রকাশ পেয়েছে ভারতের ন্যাশনাল ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের চ্যানেল থেকে। সেখানে ভিডিওটিকে অফিশিয়াল ট্রেইলার বলা হলেও বেনেগাল উত্তরে এটাকে টিজার বলেছেন।

ট্রেইলারটি কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের জন্য দ্রুত বানানো হয়েছে কি না এবং এটাই চূড়ান্ত কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বেনেগাল বলেন, ‘এটি ট্রেইলার নয়, টিজার। সিনেমাটির কাজ চলাকালীন অবস্থায় এটিকে কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে পাঠাতে হয়েছে।’

মুজিব- দ্য মেকিং অফ আ নেশন সিনেমার ভিএফএক্স নিয়ে তুমুল সমালোচনা হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দর্শকরা ট্রেইলারের ভিএফএক্সকে ‘অপরিপক্ব’ বলেছেন।

বেনেগাল বলছেন, ‘ভিএফএক্সের কাজ অসম্পূর্ণ’।

ট্রেইলারে যে ভিএফএক্স দেখা গেছে, এগুলোই কি চূড়ান্ত ভিএফএক্স, নাকি সিনেমায় ভিন্নতা থাকবে? বেনেগালের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আরও এক মাস লাগবে ভিএফএক্সের কাজ শেষ হতে।’

প্রশ্ন করা হয় ৭ মার্চের ভাষণের দৃশ্যের দর্শকদের পাওয়া কিছু অসংগতি নিয়েও। যেমন ৭ মার্চের ভাষণের মঞ্চে ‘কর্ডলেস মাইক্রোফোন’, ‘স্টেজে ট্রাইপডসহ একটি ক্যামেরা’। এসব প্রোডাকশন টিমের নজর এড়াল কীভাবে?

বেনেগাল এর সঙ্গে একমত নন। তিনি বলেন, ‘কোথাও কোনো কর্ডলেস মাইক নেই। আর বিশ্বের সবখানেই, যেকোনো বড় ইভেন্টের ফিল্ম কভারেজের জন্য ট্রাইপসহ নিউজরিলের ক্যামেরা থাকে। এটা তার পরিচালনাকারীরা তাদের সুবিধামতো জায়গায় বসিয়ে কাজ করে।’

সমালোচনার একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল খ্যাতিমান পরিচালক শ্যাম বেনেগালের বয়স। নেটিজেন এবং বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট মনে করেন, পরিচালকের বয়স হয়েছে। এমন বয়সে তার কাছে বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকের কাজ তাকে দিয়ে করানো উচিত হয়নি।

নিজের বয়স হয়েছে স্বীকার করলেও কর্মক্ষমতা কমেনি এমন দাবি জুবেইদা, অঙ্কুর ও মাম্মোর মতো খ্যাতনামা সিনেমা নির্মাতার।

তিনি বলেন, ‘এটা অযৌক্তিক দাবি। আমার বয়স আশির বেশি হতে পারে, কিন্তু আমার মস্তিষ্কের সমস্ত বিভাগ কাজ করছে খুব ভালোভাবে।

‘সৃষ্টিকর্তার কাছে ধন্যবাদ, আমি প্রতিদিন আট থেকে দশ ঘণ্টা কাজ করতে পারি; আর আমি বিচারবুদ্ধিও হারাইনি। আমার একটি অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং সক্ষম দল রয়েছে। যারা কয়েক দশক ধরে আমার সঙ্গে কাজ করছে। সেখানে তরুণ ক্যামেরাম্যান/সাউন্ড রেকর্ডিস্ট/সম্পাদক আছে। সমস্ত উদ্যোগেই তারা আমার সঙ্গে কাজ করে।

শেষ প্রশ্ন ছিল ট্রেইলারে শুনতে পাওয়া বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করা আরিফিন শুভর কণ্ঠ নিয়ে। শুভর কণ্ঠস্বর ডাব করানো হবে কি না বা তার ভয়েসওভারই চূড়ান্ত কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বেনেগাল বলেন, ‘আরিফিন শুভ বাংলাদেশে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতা পরিবেশন করেছেন। বঙ্গবন্ধুর বিখ্যাত ভাষণগুলোর সূক্ষ্মতা সম্বন্ধে তিনি ওয়াকিবহাল।’ সূত্র: নিউজবাংলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *