১২০ ভরি সোনা হয়ে গেল মাদক, চাকরি হারালেন সেই এসপি

১২০ ভরি সোনা উদ্ধারের পর বিষয়টি চেপে গিয়ে সোনা কারবারির বিরুদ্ধে মাদকের মামলা দিয়েছিল পুলিশ। সাড়ে পাঁচ বছর আগে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার এ ঘটনায় চাকরি হারিয়েছেন পুলিশ সুপার (এসপি) আলতাফ হোসেন।

ট্যুরিস্ট পুলিশের সিলেট অঞ্চলে দায়িত্বরত আলতাফ হোসেনকে চাকরি থেকে অপসারণের তথ্য জানিয়ে গত বুধবার (১৮ মে) প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ।

আলতাফ হোসেন ২০১৬ সালের ২৩ জুলাই থেকে পরের বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার ছিলেন। তাঁর দায়িত্ব পালনের সময় ২০১৬ সালের ৬ অক্টোবর বিপ্লব চ্যাটার্জি নামের এক সোনা চোরাকারবারি আটক হন। তাঁর কাছ থেকে ১২০ ভরি সোনা উদ্ধার করা হয়েছিল। পাটকেলঘাটা থানায় উদ্ধার করা সোনার জব্দ তালিকাও করা হয়েছিল। তবে পরে সোনা চোরাচালানের মামলা না হয়ে এ ঘটনায় মাদকের মামলা রেকর্ড করা হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিপ্লব চ্যাটার্জির কাছে থাকা ১২০ ভরি সোনা পাটকেলঘাটা থানা উদ্ধার করে তৎকালীন জেলা পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেনকে জানায়। উক্ত ঘটনায় থানায় সোনা চোরাচালানের মামলা রেকর্ড না হয়ে মাদক মামলা রেকর্ড হয়। পুরো ঘটনাটিকে মাদক উদ্ধার বলে চালিয়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় সাতক্ষীরার তৎকালীন এসপির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ২০১৯ সালের ৪ মার্চ পুলিশ সদর দফতরে প্রস্তাব দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ৯ জুলাই তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। একই বছরের ৪ আগস্ট অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন তিনি। ওই বছরের ২১ অক্টোবর তিনি ব্যক্তিগত শুনানিতে উপস্থিত হন।

শুনানিতে তার বক্তব্য যথাযথ মনে না হলে ২০২০ সালের ২৫ জুন পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আতাউল কিবরিয়াকে বিভাগীয় মামলাটি তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা আতাউল কিবরিয়া ২০২০ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ প্রমাণিত হয়েছে মর্মে মতামতসহ প্রতিবেদন জমা দেন। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আলতাফ হোসেনকে একই বছরের ৩ নভেম্বর আরেকটি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। ২০২১ সালের ৫ জানুয়ারি তিনি নোটিশের জবাব দেন।

তার জবাব যথাযথ না হওয়ায় চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি তাকে গুরুদণ্ড হিসেবে চাকরি থেকে অপসারণে সরকারি কর্ম কমিশনের কাছে প্রস্তাব করা হয়। কমিশন ৪ এপ্রিল প্রস্তাবিত দণ্ডের সঙ্গে একমত পোষণ করে রাষ্ট্রপতির নির্দেশের জন্য পাঠায়। অবশেষে রাষ্ট্রপতির নির্দেশক্রমে তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *