আমি শুধু কথায় বিশ্বাসী না: ইলিয়াস কাঞ্চন

ঢালিউড সুপারস্টার ইলিয়াস কাঞ্চন একসময় শুধু অভিনয়ই করেননি, ছিলেন সফল প্রযোজক ও পরিচালক। তার পরিচালনায় শেষ ছবি ছিল ‘মায়ের স্বপ্ন’। ২০১০ সালে মুক্তি পায় ছবিটি।

বর্তমানে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি হয়ে তিনি। খুব কাছ থেকে দেখছেন চলচ্চিত্র অঙ্গনের অবস্থা। এ অবস্থায় ইলিয়াস কাঞ্চন ফের প্রযোজনা ও পরিচালনায় ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির এই সভাপতি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা জানান। এছাড়াও সমিতির বেশ কয়েকজন সদস্যের সিদ্ধান্তের বিষয়েও কথা বলেছেন এই নায়ক।

ইলিয়াস কাঞ্চন অভিনয়ে যেমন আলোচনায় ছিলেন, ঠিক তেমনি শিল্পী সমিতির নেতৃত্বে এসেও ততটাই আলোচনায় তিনি।

চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ দিকে সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হলেও গত তিন মাসেও সমিতির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেননি ‘বেদের মেয়ে জোসনা‘ খ্যাত এই নায়ক। এ কারণে সমিতির স্বার্থে কিছু সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন এই অভিনেতা।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতে নেতৃত্ব দিতে যারা দাঁড়িয়েছে ও পাস করেছে, তাদের উদ্দেশ্য কী? উদ্দেশ্য ছিল শিল্পীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা। এখন যদি ওনারা (নির্বাচিত সদস্যরা) না আসেন, কাজ না করেন তাহলে দাঁড়ালেন কেন?

শিল্পী সমিতির এই নেতা বলেন, নিয়ম হলো তিন মিটিংয়ে কেউ যদি না আসে তাহলে তার সদস্যপদ থাকে না। তারপরও কিছু শর্ত থাকে, কিছু ভদ্রতার বিষয় থাকে। তাদের হয়তো চিঠি দেয়া হবে। কেন আসেন না, সদস্য থাকতে চান কিনা, মিটিংয়ে না আসার জন্য চিঠির মাধ্যমে উপযুক্ত ব্যাখ্যা দিতে হবে। এরপর চতুর্থ মিটিংয়ে সেই ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা হবে। আলোচনায় কমিটি যে সিদ্ধান্ত নেবে তার উপর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে আগের দুই মেয়াদে সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা অভিনেতা জায়েদ খানকে নিয়ে করা প্রথম কার্যনির্বাহী সভা ও নববর্ষ কিংবা ঈদ উপহার নিয়ে কিছু শিল্পীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, প্রথম যে মিটিং হয়েছে সেখানে জায়েদ হাইকোর্টের একটা ভুল কাগজ দেখিয়ে মিটিং করেছে। পরে দেখলাম কাগজ সত্যি না, আগের তারিখের কাগজ। যেহেতু ওটা একটা ছলনার আশ্রয় ছিল তাই ওই মিটিং আমি গণনায় ধরতে পারি না।

এছাড়া নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের পাশাপাশি শিগগিরই নতুন চলচ্চিত্রের কাজও শুরু করবেন কিংবদন্তি এই অভিনেতা। তিনি বলেন, কীভাবে চলচ্চিত্রের উৎপাদন বাড়ানো যায়? চলচ্চিত্রের উৎপাদন বাড়ালে আমাদের শিল্পীদের কাজের সুযোগ হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রোডাকশনে আমাকে হাত দিতেই হবে। আমি শুধু কথায় বিশ্বাসী না। অন্যকে উপদেশ দেব কিন্তু নিজে করব না। যাইহোক, আমি গল্প নিয়ে চিন্তা করছি। একটা লাইনআপ আমার কাছে এসেছে। সেটা ঘষা-মাজা করে সিনেমা তৈরি করব। অভিনয়ে নিজের সিনেমায় থাকার চেষ্টা করব। আর অন্যরা আমাকে ডাকলে পছন্দ হলে থাকার চেষ্টা করব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *