দেশের প্রথমবারের মতো ভোটকক্ষে থাকছে সিসি ক্যামেরা

কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সব কক্ষে থাকবে সিসি ক্যামেরা। ভোটের আগ দিন থেকে পরদিন মোট ৪৮ ঘণ্টা ভোটকেন্দ্রের সব তথ্য রেকর্ড থাকবে ইসির কাছে। কেউ অনিয়ম করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই সিটির ভোট দিয়েই ভোটার ও রাজনৈতিক দলগুলোকে আস্থায় ফেরাতে চায় কমিশন।

দেশে নির্বাচন ব্যবস্থা ও কমিশন গঠন নিয়ে যখন নানা সমালোচনা তখন সবার আস্থা অর্জনে মরিয়া কাজী হাবিবুল আউয়ালের নির্বাচন কমিশন। ভোটারদের গোপনীয়তার অজুহাতে আগের কমিশন যেখানে কেন্দ্র থেকে ভোটের আগে সিসি ক্যামেরা সরানোর নজির স্থাপন করেছিলো সেখানে উল্টো অবস্থানে নতুন ইসি।

নিজেদের প্রথম ভোট, কুমিল্লা সিটি নির্বাচনকে তাই মডেল নির্বাচন মনে করছে কমিশন। এই সিটির ভোটে ১০৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোটকক্ষ ৬৪০টি। সুষ্ঠু ভোটের স্বার্থে এবার প্রথমবারের মতো সব কেন্দ্রের সব ভোটকক্ষে সিসি ক্যামেরা বসাবে কমিশন।

আগামী ১৫ জুন অনুষ্ঠেয় কুমিল্লার নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আহসান হাবিব খান বলেন, “কুমিল্লা সিটি নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত কল্পে এ নির্বাচনে ভোটগ্রহনের জন্য ইভিএম প্রস্তুত (ক্যাস্টমাইজেশন) করা ও বিতরণের সময় প্রার্থীর প্রতিনিধি থাকার সুযোগ দেওয়া হবে। এ নির্বাচনে সব ভোটকেন্দ্র ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার আওতায় মনিটরিং এর সুব্যবস্থা থাকবে।”

এ নির্বাচন মেয়র, সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১৭ মে পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। এরই মধ্যে আচরণবিধি পালনে কড়াকড়ির আরোপে নিয়মিত আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে ৩ জন নির্বাহী হাকিম ও বিজিবি মোতায়েন করা হচ্ছে।

সিসি টিভি কেন, কোথায় ও কবে নাগাদ ব্যবহার শুরু করতে চায়- সে বিষয়টি তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, “ভোটকেন্দ্রে অন্যায় হল কি হল না; ভোটের পরেও অনেক সময় অভিযোগ করা হয়, এটা সঠিক কি না, প্রমাণের জন্য সুবিধা হবে সিসি ক্যামেরা। ক্যামেরা থাকলে যারা অন্যায় করতে চায়, তারা করবে না বলে মনে করি।”

তিনি জানান, নির্বাচনের আগে থেকে সিসি ক্যামেরা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নির্বাচনী মালামাল যখন কেন্দ্রে যাবে, তার আগে থেকেও হতে পারে। ভোট গণনা, ফল প্রকাশের পর আরও কিছু সময় পর্যন্ত তা থাকবে।

“প্রতিটি কেন্দ্রের বাইরে একটি করে (১০৫ কেন্দ্র) এবং কেন্দ্রের ভেতরে প্রতিটি ভোটকক্ষে (৬৪০ ভোট কক্ষ) সিসি ক্যামেরা থাকবে। তবে ভোট কক্ষের যেখানে ভোট দেওয়া হয়, সেই গোপন কক্ষে সিসি ক্যামেরা থাকবে না।”

আউটিসোর্সিংয়ের মাধ্যমে এসব সিসি ক্যামেরা ভাড়া নেওয়া হবে বলে জানান এ নির্বাচন কমিশনার।

“অনেকে ক্ষেত্রে দেখা যায়, মনোনয়নপত্র জমার দেওয়ার আগে বা জমার সময় নানা রকম আচরণবিধি লঙ্ঘন করে। এ জন্যে আগেভাগেই স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তার জন্যে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *