শুভ জন্মদিন খুদে তারকা তাসিন-তাজিম

বিনোদন প্রতিবেদক, নজর২৪: শেখ তাহমিদ হাসান (তাসিন) ও শেখ তাওহিদ হাসান (তাজিম)। দুজন যমজ ভাই। মায়াবী চেহারা, মিষ্টি কণ্ঠ ও মনকাড়া হাসি মুহূর্তেই সবাইকে মুগ্ধ করবে। আর দুষ্টু-মিষ্টু কথায় যে কেউই অল্প সময়ে আপন করে নেবে দুজনকে।

তারা রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এ্যান্ড কলেজে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে। দুজনে পড়ালেখার পাশাপাশি অভিনয় প্রতিভা দেখিয়ে ইতিমধ্যে মানুষের মন জয় করে নিয়েছে। খুদে এই তারকা শিল্পীর ১২তম জন্মদিন আজ। ২০১১ সালে এই দিনে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন তারা। বর্তমান ব্যস্ততা, পারিবারিক জীবন ও অভিনয়ের নানা বিষয় নিয়ে কথা হলো তাঁদের সঙ্গে।

প্রশ্ন: শুভ জন্মদিন।

তাসিন-তাজিম: ধন্যবাদ।

প্রশ্ন: বাসায় কী আয়োজন আজ?

তাসিন-তাজিম: আসলে বাসায় জন্মদিনের বড় কোনো আয়োজন হয় না। ছোট করে পরিবারের সঙ্গে কেক কাটি আমরা। এছাড়া সারাদিন আনন্দ উল্লাস, হইহুল্লোড় করে দিনটা উদযাপন করে থাকি।

প্রশ্ন: পরিবারে কে কে আছেন?

তাসিন-তাজিম: আমাদের দাদা-দাদু মারা গেছেন যখন আমরা অনেক ছোট ছিলাম, এখন বাবা-মাসহ আমাদের চারজনকে নিয়েই পরিবার।

প্রশ্ন: অভিনয়ে আসা কিভাবে?

তাসিন-তাজিম: আমাদের আসলে অভিনয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেয়া হয়নি। শখের বশে ২০১৯ সালে সিসিমপুরে কাজ করা হয়, তারপর প্রাণের দুই তিনটা বিজ্ঞাপনে কাজ করে আমরা “অ্যাডভেঞ্চার অফ সুন্দরবন” চলচ্চিত্রে কাজ করার সুযোগ পাই। সুন্দরবনের প্রতি সবার মত আমাদেরও অনেক বেশি আগ্রহ ছিল এবং আমাদের গ্রামের বাড়ি যেহেতু খুলনাতে সবকিছু মিলিয়ে আমরা এই চলচ্চিত্রে চুক্তিবদ্ধ হই। তারপর থেকে আমাদের টুকটাক করে অভিনয় করা আর এখন প্রতিনিয়ত অভিনয় শিখছি আর কাজ করছি।

প্রশ্ন: অল্প বয়সেই অভিনয় প্রতিভা দেখিয়ে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছো। এ পর্যন্ত কতগুলো কাজ করা হয়েছে?

তাসিন-তাজিম: স্বল্প সময়ে আমরা অনেক কাজই করেছি। তবে সবগুলোর নাম এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না। তার মধ্যেও বলতে পারি আমরা অনেক ভালো ভালো ব্রান্ডের বিজ্ঞাপনে কাজ করেছি। যেমন গ্রামীণফোন, নেসলে, বাংলাদেশ এডিবল অয়েল, প্রিমিয়ার সিমেন্ট, ডানো, ইউনিসেফ, ইলেক্ট্রো মার্ট, ইউনাইটেড হসপিটাল, বম্বে সুইটস, বসুন্ধরা সিমেন্ট, আমেরিকান টোবাকো এগুলো উল্লেখযোগ্য।

এছাড়া আমরা দূরন্তের সাথে কাজ করছি। দুরন্ত টিভির ক্লথিং ব্রান্ডের বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি ৬৫ পর্বের একটি ধারাবাহিকে কাজ করেছি। এছাড়া আমাদের সিনেমার ঝুলিতে জমা হয়েছে অ্যাডভেঞ্চার অফ সুন্দরবন ছাড়াও “৫৭০” যেখানে তাসিন একজন সৈনিকের ছেলের ক্যারেক্টার করেছে, আর আমি তাজিম শেখ রাসেলের ক্যারেক্টার করেছি। খুব অল্প সময়ের চরিত্র হলেও এটা আমাদের জন্য একটা আছিভমেন্ট। শুধু তাই নয়, অনেকগুলো স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, ওয়েব ফিল্ম এবং নাটকে কাজ করেছি। যেমন কন্ট্রাক্ট, সরি বাবা, ইফরান ও কফিনের গল্প, কাঁঠাল, আব্বা ধরা খেয়েছি, জীবনচক্র, মিস্টার কে..যেগুলো অনেক বেশি দর্শক জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং আমরা অনেক অ্যাপ্রিসিয়েশন পেয়েছি।

প্রশ্ন: বর্তমান ব্যস্ততা কি নিয়ে

তাসিন-তাজিম: কিছুদিন আগে এস এ হক অলিক পরিচালিত “গলুই” চলচ্চিত্রের কাজ শেষ করেছি। যেখানে আমি একজন মাঝির ছেলে, নাম “লালু” (সাকিব খান ভাইয়ার ছোটবেলার ক্যারেক্টার করেছি)। ঈদের দিন এটি রিলিজ পেয়েছে…. খুব শীঘ্রই আরো একটা নতুন সিনেমাতে কাজ করতে যাচ্ছি। টুয়েলভ, রং বাংলাদেশ, গাও গেরাম, চলন্তিকা, দুরন্ত কিডস ছাড়াও বিভিন্ন ব্রান্ডের ফটোশুট করছি এইতো…

প্রশ্ন: মানুষ যে তোমাদের ভালোবাসে, টের পাও?

তাসিন-তাজিম: অবশ্যই। প্রথমেই বলেছি আসলে শখের বশে আমরা সিসিমপুরে কাজ করেছিলাম। দুই-তিনটা এপিসোড করার পরেই হুট করে আমাদের অভিনয়ে আসা। পাওয়া না পাওয়ার কথা বলতে গেলে বলব আমাদের সবটুকুই পাওয়া। আমরা ওইভাবে অভিনয় না শিখেও যে এতদূর আসতে পেরেছি, এতো এতো ভালো ভালো অভিনেতাদের সাথে কাজ করেছি তাদের প্রশংসা পাচ্ছি, তাদের ভালোবাসা পাচ্ছি এটাই আমাদের কাছে অনেক অনেক বেশি। এছাড়া প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কাজের অফার পাচ্ছি, যেখানে অনেক গুণী শিল্পীরা আছেন এটাই আমাদের কাছে ছোট-বড় পুরস্কারের থেকে বড় সাফল্য।

প্রশ্ন: জীবনের লক্ষ্য কি, বড় হয়ে কি হতে চাও?

তাসিন-তাজিম: আমি তাজিম বড় হয়ে একজন চিকিৎসক হবার স্বপ্ন দেখি। আমি এই করোনাকালীন সময় দেখেছি একজন চিকিৎসকের প্রয়োজনীয়তা। আমি আর্ট করতেও অনেক ভালোবাসি, ছবি এঁকে আমি ইউনিসেফ সুপারস্টার হয়েছি। আমি এটা কেও কন্টিনিউ করতে চাই। আমি তাসিন, বড় হয়ে একজন বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন দেখি। জানিনা পারব কিনা তবে ভালো লাগে যখন আমার স্বপ্নকে আব্বু-আম্মু সাপোর্ট করে। এছাড়া আমরা দুজনে অভিনয়টাকে শখ হিসেবে পাশাপাশি রেখেছি।

প্রশ্ন: সবশেষ জানতে চাই, শিশু বয়সেই তারকাখ্যাতি পেয়েছ। এই বিষয়টা কেমন লাগে?

তাসিন-তাজিম: আমরা সব সময় সাধারণভাবে চলার চেষ্টা করি। তবে এটি সত্যি, যখন দর্শক কোনো কাজের প্রশংসা করেন তখন আরো ভালো কাজ করার উৎসাহ পাই। আর আম্মু সব সময় আমাদেরকে বলে মানুষের জন্য ভালো কিছু করো মানুষ তোমাদেরকে এমনিই মনে রাখবে, আমরা তেমন কিছুই করতে চাই। আপনারা সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন। মানুষের ভালোবাসা নিয়ে আমরা বহুদূর চেতে চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *