আবার সুদিন ফেরার স্বপ্ন দেখি: শাবানা

ঢাকাই চলচ্চিত্রের এক সময়কার দাপুটে অভিনেত্রী ছিলেন শাবানা। তিন দশকের ক্যারিয়ারে প্রায় তিনশ’র মত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। অভিনয় দিয়ে তিনি জয় করেছেন কোটি ভক্তের হৃদয়। অভিনয় ছেড়ে শাবানা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ‘অবসর জীবন’ কাটাচ্ছেন।

নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে অভিনয় জগতকে টা টা বলে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্বামী-সন্তান নিয়ে থিতু হন শাবানা। তিনি দীর্ঘদিন দেশে না থাকলেও নিয়মিত চলচ্চিত্রের খোঁজ খবর রাখেন। আর এটাকে নিজের দায়িত্ব বলে মনে করেন শাবানা।

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এ জনপ্রিয় অভিনেত্রী সম্প্রতি এক জাতীয় দৈনিককে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেখানে চলচিত্র, ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি।

শাবানা বলেন, বাংলাদেশ আমাদের মাতৃভূমি, আর বাংলা চলচ্চিত্র আমাদের প্রাণের জীবন ছবি। দেশের চলচ্চিত্রের দীর্ঘ খরার পর শুনলাম এবারের ঈদে মুক্তি পাওয়া ছবিগুলো দর্শক সাড়া পেয়েছে। শুনে মনে আনন্দ হলো, খুব ভালো লাগল। আমি চাই মেধাবী ও সমৃদ্ধ কাজের মাধ্যমে দেশীয় চলচ্চিত্রের হারানো সুদিন আবারও ফিরে আসুক।’

ঢাকাই চলচ্চিত্রের বিউটি কুইন খ্যাত কিংবদন্তি অভিনেত্রী বলেন, নিজের দেশ সবসময়ই সবার কাছে মায়ের মতো। আমি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে প্রবাস জীবনযাপন করছি সত্যি, কিন্তু মনটা স্বাভাবিকভাবেই দেশে পড়ে থাকে। নিজের চলচ্চিত্র আঙিনা, মাটি ও দেশের প্রিয় মানুষের কথা সবসময় মনে পড়ে। বারবার দেশে আসার জন্য মনটা উদগ্রীব হয়ে থাকে। ২০২০ সালে সর্বশেষ দেশে গিয়ে আবার আমেরিকা ফিরে আসার পর কথা ছিল ওই বছরই আবার আসব। কিন্তু বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারি শুরু হওয়ায় এখন পর্যন্ত আসা সম্ভব হয়নি। তবে পরিবেশ পরিস্থিতি অনুকূলে এলে শিগগিরই আসব।

কিভাবে সময় কাটছে? জানতে চাইলে বলেন, ঘরের নানা কাজ নিয়ে বেশিরভাগ সময় কেটে যায়। আমি নিজের হাতে ঘরের কাজ করতে খুব পছন্দ করি। তা ছাড়া ছেলেমেয়ে, নাতি-নাতনি ও স্বামী ওয়াহিদ সাদেকের সঙ্গে গল্প করি, নামাজ রোজা তো আছেই, টিভি দেখি, পত্রিকা পড়ি। সপ্তাহে দুই দিন রোজা রাখি। বিশেষ করে দেশ আর আমার দেশের চলচ্চিত্রের খবর রাখার চেষ্টা করি। দেশের অনেকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখি। দেশের খোঁজখবর রাখার চেষ্টা করি। এভাবেই এখানে আমার ব্যস্ত আর সুন্দর সময়গুলো কেটে যাচ্ছে। বাঙালি হিসেবে গর্ববোধ করি বলেই সময়-সুযোগ পেলে মাতৃভূমি মায়ের কোলে ছুটে আসি।

ঈদ উদযাপন নিয়ে শাবানা বলেন, পরিবার নিয়ে ভালোই কেটেছে বলতে পারি। তবে দেশে ঈদ করার যে আনন্দ তা বিদেশ বিভূঁইয়ে কখনো পাওয়া যায় না। দেশে ঈদের যে আমেজ মানে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন আর কাছের মানুষকে নিয়ে ঈদ করে যে আনন্দ পাওয়া যায়, তাতে ঈদকে সত্যিকারের উৎসব মনে হয়। যা দেশ ছাড়া অন্য কোথাও পাওয়া সম্ভব নয়। তারপরও বলব সৃষ্টিকর্তা যেখানে যে অবস্থায় রেখেছেন অনেক ভালো রেখেছেন। এ কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।

আপনি তো দেশীয় চলচ্চিত্রের খবর রাখেন, এবারের ঈদে মুক্তি পাওয়া ছবি নিয়ে কী বলবেন?
অবশ্যই, নিয়মিত চলচ্চিত্রের খবর রাখাকে নিজের দায়িত্ব মনে করি। দীর্ঘ খরার পর এবারের ঈদে শাকিব খানের দুটি ছবি ছাড়াও আরও দু-একটি ছবি মুক্তি পেয়েছে এবং ভালো চলছে বলে শুনেছি। দেশীয় চলচ্চিত্রের পজিটিভ কোনো খবর পেলে খুবই আনন্দ লাগে। এমন খবরে দেশের এ প্রধান গণমাধ্যমটির আবার সুদিন ফেরার স্বপ্ন দেখি। আসলে আমি সব বিষয়ে একজন আশাবাদী মানুষ। আমার বিশ্বাস মেধাবী, দক্ষ ও সমৃদ্ধ কাজের মাধ্যমে দেশীয় চলচ্চিত্রের সুদিন অবশ্যই একদিন ফিরে আসবে।

দেশীয় চলচ্চিত্রের দুর্দিন দূরীকরণে ফের অভিনয় বা নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
না, অভিনয়ের সময় আর নেই। এখন আমি সংসার, পরিবার আর ধর্মকর্ম নিয়েই ব্যস্ত থাকতে চাই। হ্যাঁ তবে নির্মাণের ইচ্ছা আছে। এ ইচ্ছা অবশ্য আজকের নয়, ২০১০ সালের পর থেকে একাধিকবার নির্মাণে ফেরার উদ্যোগ নিয়েও দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্পের চলমান নানা প্রতিকূলতার কারণে তা আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তবে এবার চিন্তা করছি দেশে ফিরলে আবার নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *