মানসিক হীনম্মন্যতা, মাদকাসক্তের অভিযোগ নাকচ করে এর বিচার আল্লাহর কাছে দিয়েছেন টিটিই শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘ডিসিও স্যার কেন, কীভাবে এমন মন্তব্য করেছেন আমার জানা নেই। ওপরে আল্লাহপাক একজন আছেন। তিনি দেখবেন।’
পাকশী বিভাগীয় কার্যালয়ের সামনে রোববার দুপুর ১২টার দিকে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
পাকশী রেলের টিটিই শফিকুল ইসলাম হীনমন্যতায় ভোগেন বলে ডিসিও নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন। এর জবাবে তিনি বলেন, এটি ঠিক নয়। চাকরিতে তার সন্তুষ্টি আছে। তার প্রমাণ হিসেবে বলেন, ওই রাতে যখন আমি গাড়িতে দায়িত্ব পালন করেছি, সেদিন আপ অ্যান্ড ডাউনে ৭৮ হাজার ৪৪০ টাকার রাজস্ব আদায় করে জমা দিয়েছি। আমার সহকর্মীরা জানেন, আল্লাহপাকও জানেন- আমি মানসিক বিকারগ্রস্ত কি না! আমি যদি মাদকাসক্ত হতাম তাহলে এতদিন এভাবে সুনামের সঙ্গে চাকরি করতে পারতাম না।
এ সময় এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমার চাকরিজীবনে এটাই প্রথম সাময়িক বরখাস্ত। এর আগে আমি কখনও সাময়িক বরখাস্ত হইনি। আর আপনারা বলছেন আমি নেশাগ্রস্ত, আপনাদের কাছ থেকেই শুনছি, আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি।
‘আমি পারতপক্ষে এক কাপ চাও খাই না। বিড়ি-সিগারেট বা মাদকাসক্তি এমন তো প্রশ্নই আসে না। আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, ডিসিও স্যার নাকি এমন মন্তব্য করেছেন। কেন, কীভাবে এমন মন্তব্য করেছেন আমার জানা নেই। ওপরে আল্লাহপাক একজন আছেন। উনি বিচার করবেন।’
তিনি মন্ত্রীর তিন আত্মীয়কে লাথি দিয়ে বের করে দিতে চেয়েছিলেন বলে তারা অভিযোগ করেছেন এমন প্রশ্নে টিটিই শফিকুল জানান, এমন কথা তিনি বলেননি। তিনি ভদ্র ভাষায় কথা বলেছেন। তারাও ভদ্র ভাষায় কথা বলেছেন। তিনি জানান, ওই তিন যাত্রী মন্ত্রীর লোক বলে পরিচয় দেননি। তবে সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তা এসিও (উত্তর) নুরুল আলম তাকে জানিয়েছিলেন, ওই যাত্রীরা মন্ত্রীর আত্মীয়। নুরুল আলমের সঙ্গে পরামর্শ করেই তিনি তাদের টিকিট কাটতে বলেছিলেন।
তিনি জানান, ট্রেন ঢাকায় পৌঁছানোর সময় ছিল সকাল ৭টা ১৫ মিনিট। কিন্তু ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছানোর আগে রাতেই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তখন তিনি নুরুল আলমের কাছে জানতে চান তাকে কী অপরাধে বরখাস্ত করা হলো? তখন নুরুল আলম তাকে জানিয়েছিলেন, তাদের কারণ জানানো হয়নি, কেবল সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টিই তারা জানতে পেরেছেন।
পাকশী রেলের টিটিই শফিকুল ইসলাম জানান, তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। অফিসিয়াল চিঠি পেলেই কাজে যোগ দেবেন।
তিনি আরও বলেন, সাংবদিকরা সঠিক সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে প্রকৃত বিষয়টি তুলে ধরেছেন। এর জন্য তিনি কৃতজ্ঞ।
শফিকুল ইসলাম বলেন, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। যেহেতু আমি রেলওয়ের জন্য কাজ করি, দেশের জন্য কাজ করি, আমাকে আবার কাজে যোগদানের সুযোগ দিয়েছে, তাতে আমি খুশি।
