নায়ক ওমর সানীর জন্মদিন ছিল গত শুক্রবার। এদিন এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যারিয়ার ও ঢালিউডের নানা বিষয়ে কথা বলেন তিনি। সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্য করেন পাঠকদের অনেকেই। এসবে বিরক্ত না হয়ে বরং সানী মনে করিয়ে দেন, ‘আমি সরির জায়গায় “চরি” বলে ফেললেও মানুষ ট্রল করে।’
সাক্ষাৎকারে ওমর সানীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, সিনেমার পর্দায় না থাকলেও ফেসবুকে আপনি আছেন। মানুষ যে নানা সময় ট্রল করে আপনাকে নিয়ে, ওগুলো সহ্য করেন কীভাবে? তিনি বলেন, ‘ট্রল কাকে নিয়ে করে না? রুবেল ভাই বিগ সুপারস্টার, তাঁকে নিয়েও করে। মুম্বাইতে শাহরুখকে ও সালমানকে নিয়ে করে। মৌসুমীকে নিয়ে করে—একটু মোটা হয়ে গেলেও ট্রল করে, চিকন হয়ে গেলেও করে। চুল পাকেনি কেন, এটা নিয়েও করে, পাকলেও করে। আমি সরির জায়গায় “চরি” বলে ফেললে সেটি নিয়েও মানুষ ট্রল করে। অনন্ত জলিলকে অহরহ ট্রল করে, আবার তাঁকে ছাড়া কোনো অনুষ্ঠানও হয় না। তাঁর গাড়ির দরজা থেকে স্টুডিওর দরজা পর্যন্ত লাল গালিচা বিছিয়ে তাঁকে আপ্যায়ন করা হয়।’
ওমর সানী বলেন, আমরা কিন্তু এখনো শেষ হয়ে যাইনি। আমার চেয়ে বলিউডের সালমান ও শাহরুখের বয়স অনেক বেশি। ক্যারিয়ার সালমান–শাহরুখ আমরা প্রায় কাছাকাছি সময়েই শুরু করেছিলাম। সালমান–শাহরুখ এখনো কাজ করে যাচ্ছে, অথচ ঢালিউডে আমাদের কাজে লাগানো হচ্ছে না। এখন এখানে সিনেমা হচ্ছে এককেন্দ্রিক, একজন হিরো—পৌনে তিন ঘণ্টা তাঁকেই দেখতে হবে! পাঁচটি ফাইট, পাঁচটি নাচ, তথাকথিত ‘তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচব না’ মার্কা ডায়ালগ, ভিলেনের ভাই হচ্ছে হিরো—এসব চলছে। এগুলো আর দর্শক নিতে চান না।
তিনি বলেন, দক্ষিণ ভারতে আমার বাবার বয়সী রজনীকান্তকে এখনো কাজে লাগানো হচ্ছে। আমাদের এখানে সেসব চেষ্টা নেই। ‘কেজিএফ’–এ রাভিনা ট্যান্ডনকে কীভাবে কাজে লাগিয়েছে! অথচ তিনি কিন্তু মাধুরীর মতো সুপারস্টার নন। কোথায় মৌসুমীকে কাজে লাগানো হচ্ছে? আমরা শিল্পীদের চেঞ্জ করতে পারি না!
উল্লেখ্য, ওমর সানী গত শতকের নব্বইয়ের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। ‘চাঁদের আলো’ ছবির মধ্য দিয়ে তাঁর চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়। এরপর তিনি ‘প্রেম প্রতিশোধ’, ‘মহৎ’, ‘আখেরি হামলা’, ‘চাঁদের হাসি’, ‘দোলা’, ‘আত্ম অহংকার’, ‘কুলি’, ‘কাঞ্চনমালা’সহ বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয় করেছেন।
