দেশের দক্ষিণাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলো থেকে ঈদের ছুটি কাটিয়ে রাজধানী ফিরতে শুরু করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ঢল অব্যাহত ছিল রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া লঞ্চ ও ফেরিঘাটে।
শনিবার (৭ মে) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের জিরোপয়েন্ট থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সিরিয়াল দেখা যায়।
সিরিয়ালে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, মাহেন্দ্রা, মোটর সাইকেলসহ বিভিন্ন যান রয়েছে। মহাসড়কের প্রায় ৮ কিলোমিটার দূর থেকে আঞ্চলিক সড়ক ব্যবহার করে ছোটগাড়ি গুলোকে ঘাটে পাঠাচ্ছে পুলিশ।
সময় বাড়বে ততই যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় সিরিয়ালে আটকে থেকে খাবার, বাথরুমসহ নানা সমসায় পড়ছেন যাত্রীরা। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা।
যাত্রী আরিফ, রাইহান বলেন, অফিস ধরতে চেয়েছিলাম। কিন্তু রাত ১২টা থেকে সিরিয়ালে আটকে আছি। এখনও ঘাট ৫ কিলোমিটার দূরে।
গ্রিন লাইন পরিবহনের চালক রিপন বলেন, রাত দেড়টা থেকে ঘাটে এসে আটকা আছি।
ট্রাকচালক নান্নু বলেন, বরগুনা থেকে তরমুজ নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছেন। রাত ১টা থেকে দৌলতদিয়া প্রান্তে সিরিয়ালে আটকা পড়েছেন। তরমুজের অবস্থাতো খারাপ। তরমুজ দিয়ে পানি পড়ছে।
এদিকে লঞ্চ ঘাটেও একই চিত্র। এই নৌরুটে চলাচলকারী ২০ টি লঞ্চের প্রতিটির ধারণ ক্ষমতা ১২৫ থেকে ১৭৫ জন; কিন্তু নেওয়া হচ্ছে তার দ্বিগুণ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারও বেশি।
যদিও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে লঞ্চঘাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত, রোভার স্কাউটস কাজ করছে। কিন্তু যাত্রীরা কেউ নির্দেশনা মানতে নারাজ। লঞ্চ ঘাটে ভিড়তে তারা হুড়োহুড়ি করে উঠে যাচ্ছেন।
শিমুলিয়া-মাঝিরকান্দি নৌরুটে অচলাবস্থার কারণে ওই নৌরুটের অধিকাংশ যানবাহন এই নৌরুট দিয়ে পারাপার হচ্ছে। এতে করে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে অতিরিক্ত চাপ পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডাব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক প্রফুল্ল চৌহান বলেন, ‘ছুটির শেষ দিন হওয়ায় গাড়ির চাপ বেড়েছে। সবগুলো ফেরিই চলছে। চেষ্টা করছি ঘাটের লোড-আনলোড ক্লিয়ার রাখতে, যাতে ফেরির ট্রিপ না কমে। এই রুটে এখন ছোট-বড় ২১টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।’
