আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস আজ (২৯ এপ্রিল)। দিনটি ঘিরে চোখে পড়ার মতো তেমন কোনো আয়োজন নেই বললেই চলে। এমনকি খবরের শিরোনামেও জায়গা পায়নি। আর এ নিয়েই দুঃখপ্রকাশ করেছেন কিংবদন্তি নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী অঞ্জনা।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘আজ আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস। অনেক দুঃখের সহিত জানাচ্ছি যে, বিনোদন সাংবাদিক ভাইদের প্রতি আমার অনেক ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও স্নেহ রেখে তাদের কাজের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে আমাকে বলতে হচ্ছে, আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবসে আমি কোনো বিনোদন সাংবাদিক ভাইদেরকে নৃত্য শিল্প নিয়ে কিছু লিখতে দেখলাম না।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘বিনোদন সাংবাদিকদের প্রধান উদ্দেশ্য আমাদের বাংলা সংস্কৃতি ও বাংলা ঐতিহ্যকে তাদের সুনিপুণ লেখার মাধ্যমে বিকশিত করা, আরও বেগবান করা। কিন্তু একজন নৃত্যশিল্পী হিসেবে আজ অনেক কষ্ট নিয়ে বলতে হচ্ছে, আমাদের দেশে কি তাহলে নৃত্য শিল্প অনাদৃত।’
আরেকটি স্ট্যাটাসে নিজের প্রসঙ্গে এই অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘১৯৮৭-১৯৮৮ সালে উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক মৃণাল সেন ও শক্তি সামন্ত যখন বাংলাদেশে এসেছিলেন, তখন একটি অনুষ্ঠানে তারা বলেছিলেন, বাংলাদেশের নৃত্যশিল্পের কথা আসলে প্রথমে যার নামটা শুনি সেই নামটা হলো (অঞ্জনা)। এশিয়া মহাদেশীয় ক্ল্যাসিকাল নৃত্য প্রতিযোগিতায় একমাত্র আমি বাংলাদেশ থেকে প্রতিনিধিত্ব করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম, যা আজ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে কেউ অর্জন করতে পারেনি। বাংলাদেশেও একাধিকবার জাতীয় নৃত্য প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। তাই আজকের দিনে নিজেকে অনেক সৌভাগ্যবতী মনে হচ্ছে। আজ মনে প্রাণে স্মরণ করছি তাদের। যাদের হাতে আমার নৃত্যর তালিম নেওয়া হয়েছে। বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই আমার সকল গুরুদের প্রতি। তাদের পরিশ্রমের ফলেই আমি আজ অঞ্জনা।
নাচের জন্য সহজেই সিনেমায় সুযোগ পেয়েছেন জানিয়ে অঞ্জনার ভাষ্য, ‘নৃত্যে আমি সর্বশ্রেষ্ঠা, সর্বজয়া এটা অসংখ্য বার পরিক্ষিত। এই নৃত্য শিল্পের কারণেই আমি অঞ্জনা। নৃত্যশিল্পী হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণেই চলচ্চিত্রে পদার্পণ ছিল আমার সুপ্রসন্ন। বাংলা চলচ্চিত্রের আমি একমাত্র নায়িকা যে, প্রথম চলচ্চিত্রে আমার নামের পাশে নবাগতা টাইটেল ব্যাবহার করা হয়নি। কারণ, সেই ছোট্ট বয়স থেকে নৃত্যশিল্পী হিসেবে সমগ্র বাংলাদেশ ও ভারতে সাড়া জাগানোর ক্ষেত্রে সর্বশ্রেষ্ঠ নৃত্যশিল্পী হিসেবে আমি পরিগণিত হই। তারই সুফল স্বরূপ চলচ্চিত্রে আগমন ছিল আমার সহজ স্বাধ্য। বাংলা চলচ্চিত্রে আমার পদার্পণের লক্ষে আমি চির কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি। বাংলা চলচ্চিত্রে আমার ওস্তাদ কিংবদন্তি চিত্রনায়ক ডেসিং হিরো মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা ভাইয়ের প্রতি। কারণ, নৃত্যে আমার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্যই তিনি আমাকে বাংলা চলচ্চিত্রে প্রধান নায়িকা হিসেবে আগমন করান।’
নৃত্যশিল্পী হিসেবে নিজের অর্জন প্রসঙ্গে অঞ্জনা জানান, ‘নৃত্যশিল্পে আমি ৩ বার জাতীয় পুরস্কার এবং ১০ বার আন্তর্জাতিক শ্রেষ্ঠ নৃত্যশিল্পীর পুরস্কার অর্জন করেছি। তার মধ্যে একবার সমগ্র এশিয়া মহাদেশের মধ্য প্রায় একশটি দেশের প্রতিযোগীর মধ্য একমাত্র আমি বাংলাদেশ থেকে চ্যাম্পিয়ন হই, যেটা ১৯৭৯ সালে। এ ছাড়া ১৯৮২ সালে মস্কো ইন্টারন্যাশনাল ডান্স কম্পিটিশনে চ্যাম্পিয়ন হই।’
