দু’বছরের ক্ষতি এবার পোষাবেন রংপুরের ব্যবসায়ীরা

সাইফুল ইসলাম মুকুল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, রংপুর: দরজায় কড়া নাড়ছে মুসলমানদের ধর্মীয় বড় উৎসব ঈদ। আর এই ঈদকে ঘিরে ধুমছে চলছে কেনা কাটা। ক্রেতা আর বিক্রেতাদের মধ্য চলছে দাম কষাকষি। যদিও বৈশ্বিক মহামারি করোনার থাবায় গেলো দু’বছর ব্যবসা করতে পারেননি ব্যবসায়ীরা। করোনা সংক্রমণ রোধে কার্যত বন্ধ ছিল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন তারা।

বিশেষ করে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পোশাক ব্যবসায়ীরা যে লাভের আশা করেন তা ভেস্তে যায় গত দু’বছর। তবে এবার করোনা সংক্রমণ কমে আশায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কোমর বেঁধে নেমেছেন ব্যবসায়ীরা। ছুটছেন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে।

বিভাগীয় নগরী রংপুরেও ঈদের বাজার জমে উঠেছে। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলা শহরের দোকানপাট খোলা থাকছে, ক্রেতারাও করছেন শেষ মূহুর্তের কেনাকাটা। ইফতারের পর ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে।

নগরীর ছালেক মার্কেট, জাহাজ কোম্পানি শপিং কমপ্লেক্স, গোলাম মোস্তফা সুপার মার্কেট, জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট, হাড়িপট্টি রোড, তালতলা রোডসহ বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমল ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি দোকানেই চলছে বেচা বিক্রি।

অনেকেই রোজার আগে ও শুরুতেই বিভিন্ন মোকাম থেকে মালামাল কিনে দোকানে সাজিয়ে রেখেছিলেন। বাহারি রঙের কাপড় শোভা পাচ্ছে দোকানগুলোতে। আবার কেউ কেউ নতুন কাপড় কিনতে অবস্থান করছেন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে।

ছালেক মার্কেটের ফারুক গার্মেন্টস’র মালিক ফারুক আহমেদ জানান, করোনার কারণে ২০২০ সালের রমজান মাসে পুরোপুরি দোকান বন্ধ ছিল। ২০২১ সালে রমজানের শেষ দিকে কিছুদিন দোকান খোলা থাকলেও আশানুরূপ ব্যবসা হয়নি। তবে এবার করোনা সংক্রমণ কমে আসায় গত দুই বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চেষ্টা চলছে।

হাড়িপট্টি রোডের জননী বস্ত্রালয়’র মালিক এনামুল হক জানান, রোজার শুরু বেচা কেনা চলছে, আশা রাখি আমাদের আশা এবার পুরণ হবে।

রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি রেজাউল ইসলাম বলেন, দেশে এখন বড় ধরনের কোনো মহামারি নেই। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও সন্তোষজনক। সবদিক বিবেচনায় বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ব্যবসা ভালোই হবে বলে আশা করি।

রংপুর নগরীর গনেশপুর এলাকার আন্নিকা ইসলাম রিতু জানান, শপিং মলে অনেক ভীড়, ঘুরে দেখছি কি নেয়া যায় গতবারের তুলনায় এবার দাম তবুও নিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *