কার্যাদেশ পাওয়ার আগেই ধানসহ মাটি কাটলো ঠিকাদারের কাউন্সিলর চাচা

মাসুদ রানা,বাসাইল, (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের বাসাইল পৌরসভার এক কাউন্সিলর থোরধানসহ রাস্তার ধারের কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভূক্তভোগী কৃষকরা। অথচ ওই টেন্ডারের কাজে পিডি’র অনুমোদন এবং ওয়ার্ক অর্ডারসহ অফিসিয়াল আনুষাঙ্গিক কাজগুলো এখনো প্রক্রিয়াধীন।

দরিদ্র ওই কৃষকদের জমি থেকে মাটি কাটতে না দিলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা, পুলিশি হয়রানী করবেন কমিশনার এমন অভিযোগ করেন তারা। বিষয়টি নিয়ে পৌরসভা অথবা অন্য কোথাও অভিযোগ দিলে তাদের দেখে নেয়া হবে বলে হুশিয়ারী দিয়েছেন বাসাইল পৌরসভার ৯ নাম্বার ওয়ার্ড কাউন্সিলর এইচ এম এরশাদ আলম।

পৌরসভা এবং ওই ওয়ার্ডের স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ২৪ মার্চ তারিখে ‘‘টি-টেন” প্রকল্পের আওতায় ৯ নাম্বার ওয়ার্ডের বর্নীকিশোরী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন ব্রীজ থেকে আকতারের বাড়ি পর্যন্ত তিন’শ মিটার কাঁচা রাস্তায় মাটি ফেলে দু-পাশে ১০ ইঞ্চি গাইড ওয়ালসহ ‘‘এইচবিবি” কাজের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়।

কাজটির ব্যয় ধরা হয় ৩১ লক্ষ পয়তাল্লিশ হাজার টাকা। ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এরশাদের ভাতিজা মো. আরিফ মিয়ার মালিকানাধীন মেসার্স শারমিন এন্টারপ্রাইজ কাজটি পেলেও কাউন্সিলর নিজে কাজ সম্পন্ন করার দায়িত্ব নেয়। এলাকায় প্রচার করা হয় রাস্তার কাজটি সে পেয়েছে এবং রাস্তায় সাইড বাই সাইড মাটি নেবার নির্দেশ আছে। মাটি না দিলে তার বিরুদ্ধে সরকার বাদী মামলা দেয়া হবে। এসব প্রপাগন্ডা প্রচার করার ক’দিন পর থেকেই ওই রাস্তার পাশের বোরো ধানের ক্ষেতে ভেকু বসিয়ে মাটি কাটা শুরু করে সে।

রাস্তা সংলগ্ন জমির মালিক দরিদ্র কৃষকরাসহ এলাকাবাসীরা কার্যাদেশ এবং অফিসিয়াল নির্দেশ পর্যন্ত অপেক্ষা এবং থোরধান না কেটে রোরো মৌসুম শেষ হলে মাস খানেক পর মাটি নেবার অনুরোধ করেন। এতে মন গলেনি কমিশনার এরশাদের। তিনি থোর ধানসহ মাটি কাটা শুরু করেন। জমির মালিক কৃষকরা বাধা দিলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দেয় কমিশনার এরশাদ। ভয়ে হতদরিদ্র কৃষকরা স্থানীয় কৃষি অফিস এবং পৌরসভা কোথাও অভিযোগ করেনি।

সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে যাবার পর কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে দরিদ্র কৃষক শাহনাজ, মমতা, আব্দুর রশিদ, আবুল হোসেন, শহীদ খান, সাজু মিয়া বলেন, আমরা গরীব অসহায় দরিদ্র কৃষক মানুষ। ৫শ টাকা কামলা নিয়া,সার,বিছুন দিয়া ক্ষেত করছি সেই ক্ষেত কাইটা নিছে। কত কান্নাকাটি করলাম ভেকুটা লাগায়েন না। আমাদের ক্ষেতগুলা সর্বনাশ হয়েছে। একমাত্র এই জমির ধান থেকেই সারা বছর চলে আমাদের। এই সংসার কিভাবে চালাবো । আমরা কি সরকারের কাছ থেকে কোন কিছুই পাবোনা?

এব্যাপারে ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এইচ এম এরশাদ আলম সাথে পৌরসভায় তার কার্যালয়ে কথা বলতে গেলে সাংবাদিকদের দেখেই সে কৌশলে পালিয়ে যান। পরে তার মুঠোফোন নাম্বারে ফোনদিলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই কল কেটে দেন।

বাসাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজনীন আক্তার বলেন. আমরা ক্ষতিপূরণের কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবো না। তবে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরারর ক্ষতিপূরণ চেয়ে আবেদন করলে ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশে ক্ষতির পরিমান নির্ধারন করে দিতে পারি।

বাসাইল পৌরসভার প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোশারফ হোসেন বলেন, বোরো ধানের জমি থেকে কে বা কারা মাটি কাটার সাথে টেন্ডারের সাথে আইনি কোন সম্পর্ক নেই। টেন্ডারে শারমিন এন্টারপ্রাইজ লটারীতে উইনার হয়েছে। নিয়মানুসারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী কার্যক্রম প্রকৃয়াধীন আছে।

পৌর মেয়র আব্দুর রহিম আহমেদ বলেন, বোরোধানসহ জমির মাটি কেটে নেবার বিষয়ে কোন অভিযোগ আসেনি। আমরা কোন ওয়ার্ক অর্ডার দেইনি। কোন রাস্তায় যদি কেউ অনুমতি ছাড়া মাটি ফেলে এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার।

বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা পারভীন বলেন, এ সংক্রান্ত কোন অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তারা আমাকে জানালে ওখানে সরজমিনে গিয়ে আমরা যথাযথ ব্যাবস্থা নেবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *