Home ফিচার ৬০ লাখ টাকার সেতুতে উঠতে হয় সিঁড়ি বেয়ে!

৬০ লাখ টাকার সেতুতে উঠতে হয় সিঁড়ি বেয়ে!

0
141

এক মাস আগে উন্মুক্ত করে দেয়া হলেও ব‌রিশা‌লের বা‌কেরগঞ্জ রামনগর এলাকার ভাড়ানি খালের ওপর নির্মিত সেতুতে কোনো ধরনের যানবাহন চলার সুযোগ নেই। সেটিতে পথচারীদেরকে উঠতে হয় সিঁড়ি বেয়ে।

সেতুটি নির্মাণে খরচ হয়েছে ৬০ লাখ টাকা। কিন্তু এতে উঠানামার জন্য কোনো সংযোগ সড়ক নেই। এর এক পাশে ছোট একটি সিঁড়ি নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে উঠানামার সুবিধার জন্য।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)র তথ্য বলছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে এলজিইডি বাকেরগঞ্জ অফিসের তত্ত্বাবধানে ২৭ মিটার দৈর্ঘ্যের এ সেতুটি নির্মাণ করে এমএস রূপালী নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এক মাসের বেশি সময় ধরে জনসাধারণের জন্য সেতুটি উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

নিয়াম‌তি ইউ‌নিয়‌নের এ সেতুটি বরগুনা সড়কের সঙ্গে নতুন বাজার-রামনগরের সংযোগের একমাত্র মাধ্যম। সেতুর দক্ষিণ পাশে বাকেরগঞ্জ-বরগুনা সড়ক ও উত্তর পাশে রামনগর সড়ক। রামনগর, কাফিলা, মোল্লার হাট, তালতলাসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ এ সেতু দিয়েই যাতায়াত করে।

কিন্তু এর উপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে না পারায় দেড় কিলোমিটার ঘুরে মহেশপুর বাজার হয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে লোকজনকে।

স্থানীয়রা জানান, ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে ঠিকই। কিন্ত সংযোগ সড়ক তৈরি না করে ব্রিজের এক অংশে সাত ধাপের একটি সিঁড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসী সেই সিঁড়ি ব্যবহার করে চলাচল করলেও ব্রিজটি দিয়ে যান চলাচল করতে পারছে না। তবে সিঁড়ির পাশ দিয়ে একটি ঢালের মতো বানানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেটি সম্পন্ন করা হয়নি।

স্থানীয়দের মতে, যান চলাচল করতে না পারায় ব্রিজটি এলাকাবাসীর কোনো কাজে আসেনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএস রূপালীর স্বত্বাধিকারী সুধান বাবু বলেন, নকশায় যেভাবে ছিল সেভাবেই ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে আমার কিছু করার নেই।

অপরদিকে বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আবুল খায়ের মিয়া বলেন, যেভাবে সংযোগ সড়ক করা প্রয়োজন, সেই অনুযায়ী ব্রিজের দক্ষিণ পাশে জায়গা নেই। এক্ষেত্রে সড়কটি দুইপ্রান্ত থেকেই প্রায় এক কিলোমিটার জায়গাজুড়ে উঁচু করতে হবে। সেক্ষেত্রে সড়কের সঙ্গে ব্রিজের উচ্চতা কমে আসবে, সংযোগ সড়কও তৈরি করা যাবে। এখন সংযোগ সড়ক তৈরি করলে সেটি অনেক বিপদজনক হবে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here