তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে প্রায় ৪ বছর আগে কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরের বিরুদ্ধে সঙ্গীত শিল্পী শফিক তুহিনের করা মামলার কার্যক্রম ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছেন উচ্চ আদালত।
আজ সোমবার বিচারপতি মোহাম্মদ আবু জাফর সিদ্দিকী এবং বিচারপতি মোহাম্মদ মাহমুদ হাসান তালুকদার বেঞ্চ আজ এই আদেশ দেন। গণমাধ্যমকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন আসিফ আকবর।
আসিফ জানালেন, ‘মহামান্য উচ্চ আদালতের মাননীয় বিচারক মহোদয়দের এই আদেশ শুনে মনে হলো, আমার গলায় লটকে থাকা অপবাদের জ্বলন্ত দগদগে লাল লোহার শিকলটি খসে পড়ল।’
এদিকে মামলাটি স্থগিতের খবর শুনে আসিফ আকবর তাঁর ফেসবুক আইডি ও ভেরিফায়েড পেজে একটি পোস্ট দিয়েছেন।
আসিফ লিখেছেন, ‘আমার ছোটবেলার বন্ধু ব্যারিস্টার মইন ফিরোজী মাকিন এবং তাঁর আইনজীবী স্ত্রী বন্ধু সাবরিনা সামাদ ফিরোজী—তাদের চালিয়ে যাওয়া জোরালো লড়াইয়ের ফসল এই স্থগিতাদেশ। ছোট ভাই অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, অ্যাডভোকেট মনিরসহ সংশ্লিষ্ট সবার জন্য ভালোবাসা। আমি আজ মুক্ত, উড়ে বেড়ানোর জন্য আমার আকাশ আবার উন্মুক্ত। দীর্ঘ চার বছরের অপমান, অপবাদ, গ্লানি থেকে মুক্তি পেয়েছি। এক রমজানে গ্রেপ্তার হয়েছি, আরেক রমজানে পাওয়া এই আদেশে আমি মহান আল্লাহর প্রতি যারপরনাই কৃতজ্ঞ।’
আসিফ আকবরের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা পরিচালনা করেছেন তাঁরই ছোটবেলার বন্ধু ও তাঁর স্ত্রী। তাই এই বন্ধুর প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই তাঁর। বন্ধু প্রসঙ্গে লিখতে গিয়ে আসিফ লিখেছেন, ‘আমার বন্ধু মইন খবর পেয়ে স্বেচ্ছায় এই মামলা নিয়েছে…সে প্রতিটা ডেটে নিম্ন আদালতে আমার সাথে পায়ে হেঁটে সাততলা, নয়তলার সিঁড়ি ভেঙে উঠেছে বিনা বিরক্তিতে। আমাকে বকেছে, শাসন করেছে, আবার আগলে রেখেছে তার বুকের ভেতর লুকিয়ে থাকা নরম কুসুমের মতো আবেগের জায়গাটায়…।’
কারাগারে যাওয়া জীবনের আসিফের জীবনের নতুন অভিজ্ঞতা। তাঁর মতে, এই সময়টায় তিনি মানুষকে নতুন করে চেনার সুযোগ পেয়েছেন। এই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বললেন, ‘দেশের মানুষ আমার জন্য দোয়া করেছেন, সারা দেশের মানুষের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। যারা কোনো সত্য না জেনে অভ্যাসবশত আমার মরহুম বাবা–মাকে গালাগাল করেছে, তাদেরও ধন্যবাদ। আমার পরিবার, বন্ধুমহল, ইন্ডাস্ট্রির সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। গীতিকার শফিক তুহিনকেও বিশেষ ধন্যবাদ আমাকে জেলে পাঠিয়ে নতুন অভিজ্ঞতা দেওয়ার জন্য। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে চাই, আইনজীবীর সন্তান এবং দেশের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে।’
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে গীতিকার, সুরকার ও গায়ক শফিক তুহিনের দায়ের করা মামলায় ২০১৮ সালের ৫ জুন দিবাগত রাতে গ্রেপ্তার হন আসিফ আকবর। সেদিন দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দল আসিফকে এফডিসির কাছে তাঁর অফিস থেকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৮ সালের ১ জুন গণমাধ্যমের মাধ্যমে শফিক তুহিন জানতে পারেন, অনুমতি ছাড়াই আসিফ আকবর তারসহ বিভিন্ন গীতিকার ও সুরকারের ৬১৭টি গান বিক্রি করেছেন। ২ জুন এ বিষয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন শফিক তুহিন। সেই পোস্টের পরিপ্রেক্ষিতে পরদিন রাতে আসিফ ফেসবুক লাইভে এসে বাদীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যসহ হুমকি দেন।
