ইমরান খানের ক্ষমতাচ্যুতির পর পাকিস্তানের ২৩তম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন শাহবাজ শরিফ। পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) প্রেসিডেন্ট শাহবাজ দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ভাই।
সোমবার পাকিস্তানের সংসদের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদ থেকে ইমরান খানের রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) আইনপ্রণেতারা গণপদত্যাগ করায় বিরোধী সংসদ সদস্যদের ভোটে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
দেশটির সংবাদমাধ্যম ডন বলছে, পাকিস্তানের ২৩ তম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন পিএমএল-এনের প্রেসিডেন্ট শেহবাজ শরিফ। পিটিআইয়ের সদস্যরা ভোট বর্জন করায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে ১৭৪ জন আইনপ্রণেতা তার পক্ষে ভোট দেন।
এর আগে, পিটিআইয়ের আইনপ্রণেতারা ওয়াক আউট করে সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে যান। ওই সময় পিটিআই-সমর্থিত প্রধানমন্ত্রী পদের প্রার্থী শাহ মাহমুদ কুরেশি ঘোষণা দেন, তার দলের আইনপ্রণেতারা জাতীয় পরিষদ থেকে গণপদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সংসদের ডেপুটি স্পিকার কাসিম সুরি বিবেকের তাড়নায় ভোট আয়োজন করতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেওয়ার পর পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের আয়াজ সাদিকের সভাপতিত্বে ভোট হয়। এতে বিরোধীদের ১৭৪ ভোট পেয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন শেহবাজ শরিফ।
পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল মূলত ২০২৩ সালের আগস্টে। কিন্তু তার আগেই অনাস্থা ভোটে হেরে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে। অতীতের ধারা অনুসরণ করে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের পতনও হয়েছে মেয়াদ পূর্ণ করার আগেই।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পদে পিটিআইয়ের ভাইস-চেয়ারম্যান শাহ মুহাম্মদ কোরেশি ও পিএমএল-এন শাহবাজ শরিফ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু সোমবার পার্লামেন্টে কোরেশি ঘোষণা দেন, তাদের দলের সবাই একসঙ্গে পদত্যাগ করবেন। এর পরপরই পার্লামেন্ট থেকে ওয়াক আউট করেন তারা।
ডেপুটি স্পিকার কাসিম সুরি ‘বিবেকের বাধায়’ দায়িত্ব পালন করতে না পারায় এদিন অধিবেশন পরিচালনা করেন পিএমএল-এন নেতা আয়াজ সাদিক। চেয়ারে বসে তিনি ঘোষণা দেন, আইনপ্রণেতাদের পার্লামেন্ট কক্ষে প্রবেশের জন্য পাঁচ মিনিট ধরে ঘণ্টা বাজানো হবে। ঘণ্টা থামার পর সব দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেউ ঢুকতে বা বের হতে পারবেন না।
এরপর প্রধানমন্ত্রী প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন সাদিক। কিন্তু এসময় ভুলক্রমে শাহবাজ শরিফের বদলে তার ভাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের নাম উচ্চারণ করে ফেলেন তিনি। অবশ্য পরক্ষণেই তা সংশোধন করে বলেন, ক্ষমা চাচ্ছি শাহবাজ সাহেব, নওয়াজের নাম আমার হৃদয়ে গেঁথে রয়েছে।
এরপর তিনি শাহবাজের পক্ষের ভোটদানে ইচ্ছুকদের বাম পাশে ও কোরেশির পক্ষের লোকদের ডান পাশে গিয়ে ভোট দিতে বলেন। ভোট এরই মধ্যে শেষ হয়েছে এবং এর ফলাফল জাতীয় পরিষদ সচিবের কাছে পৌঁছেছে।
