Home প্রধান খবর জামিন পেলেন সম্রাট

জামিন পেলেন সম্রাট

0
205

রমনা থানার মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় জামিন পেয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। রোববার (১০ এপ্রিল) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. তোফাজ্জল হোসেনের আদালত ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মেহেদী মাকসুদ আসামি সম্রাটকে আদালতে হাজির করে রমনা থানার মানিলন্ডারিং আইনের মামলায় ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।

সম্রাটের পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এহসানুল হক সমাজী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর আজাদ রহমান এই জামিনের বিরোধিতা করে রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে রিমান্ড না মঞ্জুর করে জামিনের আদেশ দেন আদালত।

এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সম্রাটকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকার সিএমএম আদালতে আনা হয়।

এছাড়াও অস্ত্র আইনে আরেক মামলায় তার জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত বলে জানিয়েন অ্যাডভোকেট এহসানুল হক সমাজী।

সম্রাটের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এহসানুল হক সমাজী জানান, সম্রাট গ্রেফতার হওয়ার প্রথম দিকে এ রিমান্ড আবেদন করেছিল সিআইডি। কিন্তু তখন তিনি অসুস্থ থাকায় শুনানি হয়নি। সম্প্রতি আমরা মামলাটিতে জামিনের আবেদন করলে আদালত রিমান্ড শুনানির জন্য ১০ এপ্রিল দিন ঠিক করেন।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, সম্রাট রাজধানীর মতিঝিল, ফকিরাপুল, পল্টন, কাকরাইল এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেন। তিনি আনুমানিক ১৯৫ কোটি টাকা এনামুল হক আরমানের সহায়তায় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় পাচার করেন।

আসামিদের বিদেশ গমনের তথ্য পর্যালোচনা করে জানা যায়, সম্রাট ২০১১-২০১৯ সাল পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে ৩৫ বার, মালয়েশিয়ায় তিনবার, দুবাইয়ে দুইবার এবং একবার হংকং ভ্রমণ করেন। একই সময়ে আরমান ২৩ বার ভ্রমণ করেন সিঙ্গাপুর।

২০১৯ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পর সম্রাটের নাম উঠে আসে। এরপর থেকেই তাকে নিয়ে শুরু হয় নানা গুঞ্জন। অভিযান শুরুর পর হাইপ্রোফাইল কয়েকজন গ্রেফতার হলেও খোঁজ মেলেনি সম্রাটের। এসবের মধ্যে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রামে আত্মগোপনে থাকা সম্রাট ও আরমানকে গ্রেফতার করে র্যাব। পরে ঢাকায় এনে তাদের করা হয় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ।

ওই দিন দুপুর ২টার দিকে র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে বাহিনীটির একটি দল কাকরাইলে ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে সম্রাটের কার্যালয়ে অভিযান শুরু করে। কার্যালয়ে অবৈধভাবে পশুর চামড়া রাখার দায়ে তার ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here