কিংবদন্তি অভিনেতা ও ঢাকা-১৭ আসনের এমপি আকবর হোসেন পাঠান ফারুক দীর্ঘদিন ধরে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
গত ২০২১ সালের ৪ মার্চ থেকে মাউন্ট এলিজাবেথে চিকিৎসাধীন ফারুকের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে পরিবার।
গতকাল শনিবার মধ্যরাত থেকে এই অভিনেতার মৃত্যুর গুজব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে ২০২১ সালের ৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় হঠাৎ তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছিল।
প্রিয় অভিনেতার এমন সংবাদে বিচলিত হয়ে পড়েন নায়ক ফারুকের ভক্ত ও অনুরাগীরা।
বর্তমানে সিঙ্গাপুরে চিত্রনায়ক ফারুকের সঙ্গে অবস্থান করছেন তার স্ত্রী ফারহানা ফারুক। কেমন আছেন এ চিত্রনায়ক এ প্রসঙ্গে ফারহানা বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, তোমাদের প্রিয় ফারুক ভাই ভালো আছেন। তার সুস্থতার জন্য তোমাদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, বারবার গুজব ছড়ানো হচ্ছে। আমরা অস্থির হয়ে যাচ্ছি এসব গুজবের কারণে। কাল রাত থেকে অনেক ফোন পেয়েছি। রোজা রেখে আজ সকাল থেকেও অনেক ফোন রিসিভ করছি। দয়া করে গুজবে কান দেবেন না।
প্রায় পাঁচ দশক ধরে বড় পর্দা মাতিয়েছেন নায়ক ফারুক। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে ঢাকা-১৭ আসনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
১৯৪৮ সালের ১৮ আগস্ট সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন চিত্রনায়ক ফারুক। ১৯৭১ সালে এইচ আকবর পরিচালিত ‘জলছবি’তে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রে ফারুকের আত্মপ্রকাশ ঘটে। প্রথম সিনেমায় তার বিপরীতে ছিলেন মিষ্টি মেয়ে কবরী।
এরপর ১৯৭৩ সালে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র খান আতাউর রহমানের পরিচালনায় ‘আবার তোরা মানুষ হ’ ও ১৯৭৪ সালে নারায়ণ ঘোষ মিতার আলোর মিছিল এ দুটি সিনেমায় পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।
১৯৭৫ সালে তার অভিনীত ‘সুজন সখী’ ও ‘লাঠিয়াল’ সিনেমা দুটি ব্যাপক ব্যবসাসফল হয়। ওই বছর ‘লাঠিয়াল’র জন্য তিনি সেরা-পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। ১৯৭৬ সালে ‘সূর্যগ্রহণ’ ও ‘নয়নমণি’, ১৯৭৮ সালে শহীদুল্লাহ কায়সারের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত আবদুল্লাহ আল মামুনের ‘সারেং বৌ’, আমজাদ হোসেনের ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’সহ বেশকিছু সিনেমায় ‘মিয়া ভাই’খ্যাত চিত্রনায়ক ফারুকের অভিনয় প্রশংসিত হয়।
