নজর২৪ ডেস্ক- ফ্রান্সে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করার প্রতিবাদে ফুসে উঠেছে মুসলিম বিশ্ব। দেশটির পণ্য বয়কটের পাশাপাশি বিক্ষোভ মিছিল-প্রতিবাদ সমাবেশ হচ্ছে দেশে দেশে। ফরাসি পণ্য বয়কটের প্রতিবাদে সারা বিশ্বের এসব প্রতিবাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় মিছিল বাংলাদেশে হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভারতে নির্বাসিত বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।
গত মঙ্গলবার বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট থেকে শুরু হওয়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচির দুইটি ছবি শেয়ার করে আজ বুধবার তসলিমা তার ফেসবুকে লিখেছেন, কী ভয়ংকর নবীপ্রেম বাংলাদেশের মুসলমানদের।
মুসলিম ধর্মালম্বীদের অনেকটা হেয় প্রতিপন্ন করে তিনি আরও লিখেন, এমন প্রেম আরবের মুসলমানদেরও নেই। সারা বিশ্বে ফরাসি পণ্য বয়কটের সবচেয়ে বড় মিছিল হয়েছে সোনার বাংলাদেশে। মিছিল করেছে সোনার দেশের সোনার খোকারা। এই খোকাদের যিনি জন্ম দিয়েছেন, সেই কওমি মাতা কোথায়?
এর আগে ঢাকায় ফ্রান্সের দূতাবাস ঘেরাওয়ের কর্মসূচি নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দলের শত শত নেতাকর্মী মঙ্গলবার সকালে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এদিন বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট থেকে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের পর একটি বিশাল মিছিল নিয়ে ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে গুলশানের দিকে রওনা হয় দলটির নেতাকর্মীরা। মিছিলটি শান্তিনগর মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ আটকে দেয় এবং এখানেই তাদের কর্মসূচির ইতি ঘটে।
বিক্ষোভে ফ্রান্সের পতাকা এবং দেশটির প্রেসিডেন্টে ইমানুয়েল ম্যাক্রোর কুশপুত্তলিকা আগুন দিয়ে পোড়ানো হয়েছে। সেই বিক্ষোভ থেকে ফ্রান্সের পণ্য বর্জনের আহ্বানও জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের একটি স্কুলে মহানবীর ব্যঙ্গচিত্র শিক্ষার্থীদের কাছে প্রদর্শন করেন এক শিক্ষক। এ ঘটনায় চেচেন বংশোদ্ভূত এক মুসলিম ওই শিক্ষককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। পরে পুলিশের অভিযানে হামলাকারী নিহত হয়। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন ওই ব্যঙ্গচিত্র প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘ফ্রান্স কার্টুন প্রত্যাহার করবে না।’ ফরাসি প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে।
এর প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটির নাগরিকদের জন্য একটি ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে। এতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, ইরাক ও মৌরিতানিয়া সফরকালে ফরাসিদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তাদেরকে ব্যঙ্গচিত্রের প্রতিবাদে যে কোনো বিক্ষোভ ও গণজমায়েত এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘বিশেষ করে ভ্রমণ এবং পর্যটক বা কর্মীরা যেখানে বেশি যাতায়াত করে সেসব স্থানে অতিরিক্ত সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’
