রোজায় বেগুনের দাম হঠাৎ বেড়ে যায় বলে ইফতারের মুখরোচক খাবার তৈরির ক্ষেত্রে বিকল্প সবজি দেখিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, চাহিদা বাড়ায় বেগুনের দাম বাড়ছে বলে মিষ্টি কুমড়া দিয়ে ‘বেগুনি’ তৈরি করা যায়।
বুধবার (০৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের সপ্তদশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং বিভিন্ন পণ্যের বাজার দর নিয়ে কথা বলেন সরকার প্রধান।
শেখ হাসিনা বলেন, “বেগুনের দাম… এই রোজার সময় সবাই বেগুনি খাবে। হঠাৎ ১১০ টাকার ওপরে বেগুন হয়ে গেল। সেটা এখন কমে ৮০ টাকায় এসেছে।
“বেগুন দিয়ে বেগুনি না খেয়ে আরও যে সবজি সহজলভ্য আছে, সেটা দিয়ে খেলেই হয়। আমরা তাই খাই। মিষ্টি কুমড়া দিয়েও খুব ভালো বেগুনি বানানো যায়। সেভাবে আমরা করি, সেভাবে করা যায়।”
বাজারে বাড়তি দ্রব্যমূল্য বিষয়ে অধিবেশনে কথা বলেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা। এর প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মোটা চালের দাম এখন ৪৬ টাকার মতো আছে। সেটি খুব বেশি বাড়েনি। চিকন ও মাঝারি চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। আলু পাইকারি বাজারে ২০ টাকা খুচরা বাজারে ২৫ টাকা। পেঁয়াজের দামের জন্য এখন কৃষক হাহাকার করছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন দ্রব্যের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘মানুষ যেন বেশি কষ্ট না পায়, সেই পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি।’
সমাপনী অধিবেশনে সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা জি এম কাদের দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, যানজট, প্রকল্প বাস্তবায়নের খরচ বেড়ে যাওয়া, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। শ্রীলংকার অর্থনৈতিক সংকটের প্রসঙ্গ ধরে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি শঙ্কা জানান।
প্রায় প্রতিটি বিষয়েরই জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রকল্পের খরচ বেড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। রড-সিমেন্টসহ প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়েছে। এটি কেবল আমাদের দেশে নয়, সব দেশে। জিনিসপত্রের দাম বাড়ার জন্য আমেরিকার অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এক ডলারের তেল চার ডলার হয়ে গেছে। কোনো কিছুর দাম বাড়লে তার সঙ্গে অ্যাডজাস্টমেন্ট করে নিতে হয়। না হলে আমাদের কাজ সম্পন্ন হবে না।
তারপরও বিএনপি-জাতীয় পার্টির শাসনামলের তুলনায় দুর্নীতি কম হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘বিএনপি-জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় থাকতে বিদেশ থেকে কোনো জিনিস কেনার সময় ১০ টাকার জিনিস ২০ টাকায় কিনে বাকি ১০ টাকা পকেটে ঢুকাত। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে সেটি হয় না। আমরা বরং দাম কমিয়ে আনি।’
সময়মতো প্রকল্প শেষ না হওয়ার বিষয়ে জি এম কাদেরের বক্তব্যের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা পায়রা পাওয়ার প্ল্যান্ট আট মাস আগে উদ্বোধন করেছি। এতে প্রায় ৮০ কোটি টাকা বেঁচে গেছে। আমরা প্রতিটি কাজ আগে করি কিছু টাকা বাঁচাই। কিছু কিছু জায়গায় ঠিকই কাজ হয়।’
