রাফিয়াত রশিদ মিথিলাকে এখন কেবল বাংলাদেশী অভিনেত্রী বলা চলে না। কলকাতার ঘরণি হওয়ার পর তিনি সেখানকার শোবিজেও পায়ের ছাপ ফেলেছেন। এরইমধ্যে কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করা শেষ। সেগুলো রয়েছে মুক্তির অপেক্ষায়।
সিনেমায় দৌড়-ঝাঁপের ফাঁকে মিথিলা পা গলিয়েছেন ওয়েবের দুনিয়ায়। কলকাতার জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘মন্টু পাইলট’-এর দ্বিতীয় সিজনে অভিনয় করেছেন তিনি। বিপরীতে আছেন সৌরভ দাস। ওয়েব সিরিজের জন্যই বেশ কিছু দিন কাটিয়ে এলেন নিষিদ্ধ পল্লি নীল কুঠিতে! খুব কাছে থেকে দেখলেন ‘বহ্নি’কে। কেমন লাগল?
বাংলাদেশ থেকে ফোনে প্রথম আনন্দবাজার অনলাইনের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন যৌ.নপল্লীতে বসবাসের অভিজ্ঞতা…
প্রশ্ন: এই প্রথম ভারতীয় বাংলা সিরিজে। এই প্রথম সাহসী সিরিজে। শুরুতে অনেক দ্বিধা?
মিথিলা: ‘মন্টু পাইলট ২’-এ ‘বহ্নি’ চরিত্রে ডাক পাওয়ার পরে বা গল্প শোনার পরে এক মুহূর্তের জন্য কোনও দ্বিধা, জড়তা কাজ করেনি। কারণ, এটা সমাজের এমন একটা অবহেলিত গোষ্ঠীর গল্প যাঁদের প্রতি মুহূর্তে আমরা সমাজচ্যুত করার চেষ্টা করি। এবং অস্বীকার করি। আমরা মানি বা না মানি যৌ.নকর্মীরা এই সমাজেরই অংশ। প্রতিটি পেশার মানুষের মতোও এঁদেরও অবদান আছে সমাজে। ওঁরা না থাকলে সমাজের নারীরা এত নিরাপদে থাকতে পারতেন না। কিন্তু ক’জন এঁদের কথা বলেন? দেবালয় বলছেন। একজন উন্নয়নকর্মী হিসেবে, একজন অভিনেত্রী হয়ে এমন চরিত্র করতে রাজি হব না! যদিও অভিনয়ের আগে সবার মুখে শুনছিলাম, ‘মন্টু পাইলট’ নাকি প্রচণ্ড বিতর্কিত একটা সিরিজ।
প্রশ্ন: আপনি নিজেও প্রথম সিজন দেখেছেন, খুব বিতর্কিত মনে হয়েছে?
মিথিলা: আমি অন্তত এমন বলার কারণ খুঁজে পাইনি। সিরিজটি আলোচিত হতে পারে। কিন্তু সমালোচিত বা বিতর্কিত হওয়ার মতো কিছু আমার চোখে পড়েনি। যৌ.নকর্মীদের জীবন, যন্ত্রণা, লড়াই সিরিজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। যা দেখানো উচিত। জানানোও দরকার। ওঁরাও তো এই সমাজেরই বাসিন্দা। তা হলে অকারণে বিতর্ক ছড়াবে কেন? আমি ‘মন্টু পাইলট’ করছি শুনে দুই দেশের বিনোদন দুনিয়ার মানুষদের সে কী প্রতিক্রিয়া! বলেছেন, তুমি এই সিরিজে অভিনয় করবে! মনে হয় ঠিক হবে না। শুনে খুব অবাক হয়েছিলাম।
প্রশ্ন: সৃজিত মুখোপাধ্যায় নিষেধ করেছিলেন?
মিথিলা: (হেসে ফেলে) আমার পেশাগত কোনও ব্যাপারে সৃজিত মুখোপাধ্যায় কখনও মাথা ঘামান না। মন্তব্যও করেন না। আমি কোন চরিত্রে, কোন পরিচালকের কী ছবিতে বা কোন দেশের ছবিতে বা সিরিজে অভিনয় করব, সেটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার।
প্রশ্ন: ‘গঙ্গুবাই’ বোধহয় কিছুটা হলেও ‘মন্টু পাইলট’-এর কাঁধ থেকে বিতর্কের বোঝা কমিয়ে দিয়ে গেল?
মিথিলা: আগেও বলেছি আবারও বলছি, সিরিজ নিয়ে বিতর্ক আমাদের অজ্ঞানতার উদাহরণ। সেটা ‘গঙ্গুবাই’ মুক্তির আগে হোক বা পরে। কেন যৌ.নকর্মীর জীবন সাধারণ মানুষ দেখবে না? কেন তাঁদের কষ্ট আমরা বুঝব না? কেন ওঁরা আমাদের পাশে জায়গা পাবেন না! কেউ সেটা দেখাতে বা বলতে চাইলে কেন সেই বিষয়কে বিতর্কিত তকমা দেব! সিরিজের বিষয়টি নিয়ে প্রশংসাসূচক আলোচনা হতেই পারে। সবার অভিনয় নিয়ে আলোচনাও হতে পারে। কিন্তু সমালোচনা কোনও মতেই নয়। তবে ‘গঙ্গুবাই’-তে যেভাবে যৌ.নপল্লিকে দেখানো হয়েছে সেটা অনেক বেশি জাঁকজমকে ঠাসা। বড় বাজেটের ছবি তো। সিরিজে কিন্তু যৌ.নপল্লির প্রকৃত চেহারা বা পরিবেশটাই দেবালয় দেখিয়েছেন। এখানে জৌলুসের কোনও জায়গা নেই।
প্রশ্ন: ‘বহ্নি’ কেমন?
মিথিলা: একদম শুরুতে বহ্নি বড় লোক বাবার আদুরে মেয়ে। যে ঘটনাচক্রে নীলকুঠিতে চলে আসে। এখানে এসে সে নিজেকে যেন নতুন করে চিনতে পারে। নিজের জীবনের সমস্ত কঠিন সিদ্ধান্ত নিজেই আস্তে আস্তে নিতে শেখে। একটা সময়ের পরে মানবী বহ্নি যেন নারীশক্তিতে বলীয়ান হয়ে অতি মানবীতে পরিণত হয়। আমার চরিত্রের দুটো স্তর। বহ্নি আর পরি। বহ্নি আস্তে আস্তে কী ভাবে নিজের উত্তরণ ঘটিয়ে পরি হয়ে উঠবে সেটাই দেখানো হবে দ্বিতীয় সিজনে। একজন মেয়ে পরিস্থিতির কারণে কতভাবে বদলে যায়, ঘা খেতে খেতে পরিণত হয়ে ওঠে সেটাই দেখাবে এই চরিত্র।
প্রশ্ন: সমাজকর্মী হিসেবে ‘বহ্নি’র মতো মেয়েদের কাছ থেকে দেখেছেন কখনও? ওঁদের কোনও আচরণ অভিনয়ে ফুটিয়েছেন?
মিথিলা: আমি বহ্নির মতো মেয়েদের দেখেছি। পরিচিত ওঁদের জীবনযাত্রার সঙ্গে। ওঁদের নিয়ে হওয়া ছবি দেখেছি। লেখা পড়েছি। সে সব আমার অভিনয়ে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।
প্রশ্ন: মিথিলাকে চরিত্রের খাতিরে কোনও সাহসী পোশাক পরতে হয়েছে? সাহসী দৃশ্যে দেখা যাবে তাঁকে?
মিথিলা: (একটু থেমে) আমি ঠিক জানি না, তথাকথিত ‘সাহসী’ কাকে বলে? চরিত্রের খাতিরে যেটা আমায় করতে হবে আমি সেটাই করব। একজন অভিনেতার সেটাই করা উচিত। রাজর্ষি দে-র ‘মায়া’ ছবিতেও আমাকে যেভাবে দেখা যাবে সেটা যথেষ্ট সাহসী। আমায় এর আগে ওই চরিত্রে, ওই সাজে কেউ দেখেননি। সাহসী মানেই খোলামেলা পোশাক আর চুম্বন দৃশ্যে অভিনয় কিন্তু নয়। আমি অন্তত তেমনটাই মনে করি।
