আব্বা–আম্মাও মাঝেমধ্যে কাবিলা নামে ডেকে ফেলেন: পলাশ

জিয়াউল হক পলাশকে পরিচিতি এনে দিয়েছে যে প্রজেক্ট, সেটার নাম ব্যাচেলর পয়েন্ট। কাজল আরেফিন অমি পরিচালিত এই ধারাবাহিক নাটকে ‘কাবিলা’ চরিত্রে অভিনয় করে দেশজুড়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন পলাশ। এমনকি তিনি নিজের নামের চেয়ে কাবিলা নামেই এখন বেশি পরিচিত।

সাফল্যের সঙ্গে ব্যাচেলর পয়েন্টের সিজন থ্রি প্রচারের পর থেকেই দর্শক অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল নতুন সিজনের জন্য। আর সেই অপেক্ষার অবসান হয় গত ১১ মার্চ।

আর এরই মধ্যে বাংলা নাটকে ভিউর হিসাবে রেকর্ড করেছে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’–এর চতুর্থ সিজন। মাত্র ১৭ দিনে ধারাবাহিকটির প্রথম পর্বের ভিউসংখ্যা প্রায় কোটির ঘরে।

নাটকটির সবচেয়ে আলোচিত কাবিলা চরিত্রে অভিনয় করা জিয়াউল হক পলাশ সম্প্রতি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো-

ব্যাচেলর পয়েন্ট’ নাটকটির চতুর্থ সিজনটি থেকে দর্শকদের সাড়া কি বেশি পাচ্ছেন?

সব সিজনেই সাড়া ছিল। তবে বছরখানেক বিরতি দিয়ে চতুর্থ সিজনটি প্রচারিত হচ্ছে। এই সিজনের প্রতি দর্শকদের আলাদা আগ্রহ ছিল। কারণ, নাটকটিতে কাবিলার সঙ্গে বোরহান চরিত্রের ঝামেলা ছিল। তৃতীয় সিজনের শেষ পর্বে কাবিলাকে জেলে যেতে দেখা যায়। ওখানেই দর্শকের আগ্রহ ছিল। এরপর কী হবে, কী হবে—এ ধরনের অপেক্ষা। এ কারণে চতুর্থ সিজন তৈরির জন্যও দর্শকের চাপ ছিল।

নাটকের এই সফলতায় আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

ভালো লাগছে, মানুষ নাটকটি আগ্রহ নিয়ে দেখছেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে ইউটিউবের ভিউর দিক থেকে বাংলা নাটক হিসেবে এটি রেকর্ড গড়েছে। এ জন্য নিজের মধ্যে অন্য রকম ভালো লাগা কাজ করছে। বাংলা নাটকের একটা ইতিহাসের সঙ্গে থেকে গেলাম।

‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ নাটকটিতে অভিনয় করে ব্যক্তি পলাশের জীবন পাল্টে গেছে কি?

কিছুটা তো পাল্টেছেই। আগে নরমাল একজন মানুষ ছিলাম। এখন ঘর থেকে বের হলে রাস্তাঘাটে দুই-চারজন মানুষ আমাকে চেনেন। আমার সঙ্গে ছবি তোলেন। অনেকে আমার অভিনয়ের প্রশংসা করেন। অভিনয় করে নিজের নামটাও পাল্টে গেছে।

কেমন?

দেখেন না সবাই কাবিলা ডাকে আমাকে। আমার আসল নাম পলাশ যেন ঢাকা পড়ে গেছে। এমন অবস্থা হয়েছে, কখনো কখনো আমাকে পলাশ নামে ডাকলে হঠাৎ করে নিজের কাছে অন্য রকম মনে হয়। মজার ব্যাপার হলো, প্রথম দিকে আমার মা–বাবা ভাবতেন, তাঁদের দেওয়া নাম বাদ দিয়ে ছেলের নাম সবাই কাবিলা বলে ডাকে কেন। তখন তাঁরা আমার এই নাটক দেখেননি। পরে ব্যাপারটা বুঝতে পারেন। তাঁরাও এখন ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ দেখেন। মাঝেমধ্যে আব্বা–আম্মাও মুখ ফসকে কাবিলা নামে ডেকে ফেলেন। হা হা হা।

আচ্ছা, কাবিলা চরিত্রটির ম্যাজিক কোথায়?

এটি আমি বলতে পারব না। কারণ, আমি চরিত্রটি করেছি, মানুষ দেখছেন। আমি চরিত্রটি করতে গিয়ে মনেই করি না যে আমি অভিনয় করতে এসেছি, অভিনয় করছি। এই প্রেশার আমি নিতে চাই না। কারণ, কাজ করে আমি দুনিয়া উল্টে ফেলব, এটা ভাবিই না। কাজের সময় শুটিং জোনে গিয়ে চরিত্রের মধ্যে ঢুকে যাই। চরিত্রটি যেভাবে হাঁটে, যেভাবে কথা বলে, সেটাই করার চেষ্টা করি। এর বাইরে কোনো কিছুই মাথায় নিই না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *