গত ৮ মার্চ আশফাক নিপুণের ‘সাবরিনা’ ওয়েব সিরিজটির টিজার উন্মোচন অনুষ্ঠান হয়। সিরিজটির মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন এ সময় ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এখানকার প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পীদের কাজের ধরন নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। বলেছেন কাজের প্রতি তাঁর নিজের আন্তরিকতা ও ভালোবাসার কথা।
বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেছেন, টানা কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় বিশ্রামেরও খুব একটা সময় পান না, ‘আমার কাছে মনে হয়, আমাদের মতো পরিশ্রমী শিল্পী হয়তো পৃথিবীর কোথাও নেই। হলিউডের শিল্পীদেরও আমরা চ্যালেঞ্জ করতে পারি।’
আরেকটি অংশে বলেছেন, ‘শুধু আমি নই, প্রত্যেক শিল্পীকে দুই-তিন দিনে একটি নাটকের কাজ করে পরের দিন আরেকটির শুটিংয়ে যেতে হয়। এত কম সময়ে একটি চরিত্র থেকে আরেকটি চরিত্র ধারণ করার কষ্টটা আমরা যাঁরা শিল্পী, তাঁরাই শুধু বুঝি।’
কথাগুলো বর্তমান সময়ে তাঁর কাজের বাস্তবতার সঙ্গে মিলে গেলেও কিছু কথা পছন্দ হয়নি অনেকের। খোদ বিনোদন অঙ্গনেরই কেউ কেউ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সমালোচনা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
তবে মেহজাবীনের এই কথার প্রসঙ্গে তার পাশে দাঁড়িয়ে ফেসবুকে নিজের মন্তব্য জানিয়েছেন মীর সাব্বির। তিনি বলেছেন, ‘মেহজাবীন সঠিক। এই কথা আমি আরও ১০ বছর আগে বলেছি।’
এই অভিনেতা বলেন, “মেহজাবীন হলিউডের শিল্পীদের সঙ্গে যে তুলনা করেছে সেটা কেবলই উপমা হিসেবে ব্যবহার করেছে। আর সে যেই বিষয়গুলো বলেছে তা যৌক্তিক।”
মীর সাব্বির বলেন, “আমরা অনেক সময় কাউকে সুন্দর লাগছে বুঝাতে বলে থাকি ‘তোমাকে চাঁদের মতো সুন্দর লাগছে’। কিন্তু প্রকৃত অর্থে কেউ চাঁদের মতো হয় না। আমরা উপমা হিসেবে বলে থাকি কথাগুলো। মেহজাবীনের বিষয়টিও তাই। আমরা সবাই এটা অন্তত জানি, হলিউড বিশ্বের বড় একটি ইন্ডাস্ট্রি। সেখান থেকে বিশাল বাজেটে বড় বড় সিনেমা হয়। তাদের সেই ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে আমাদের শিল্পীদের পরিশ্রমের বিষয় শুধু তুলনা করা হয়েছে; ইন্ডাস্ট্রি নয়।”
এই অভিনেতা বলেন, “মেহজাবীন যা বলেছে তা আমি আরও দশ-বারো বছর আগে বলেছি। আমরা যখন নাটক-সিনেমায় শুটিং করি তখন বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকে। কখনো আমাদের দুই দিনের মধ্যে শুটিং শেষ করতে হয়। কখনো দেখা যায় শুটিং ভেন্যুগুলো (শুটিং বাড়ি) ঠিক থাকে না। সাধারণত যেসব বাড়িতে আমরা শুটিং করি তা শুটিংয়ের জন্য নির্মিত না। মানুষের বসবাসের বাড়িতে শুটিং করি আমরা।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা রাস্তা-ঘাটে অব্যবস্থাপনা, নানা জটিলতা নিয়ে যেখানে-সেখানে শুটিংয়ের জন্য দাঁড়িয়ে পড়ি। চাইলেই সুন্দর একটা পার্কে শুটিং করতে পারি না। দেখা যায় পার্কের অনেক মানুষ বিব্রত হয়। বিপরীতে বিশ্বের অন্যান্য দেশে পার্কের সময় নির্ধারণ করা হয়, এই সময় শুধু শুটিং হবে; অন্য কিছু না। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ নেই।”
