কেন এতো দ্রুত সাজা হলো হাজী সেলিমের ছেলের?

নজর২৪ ডেস্ক- রাজধানীর সড়কে প্রকাশ্যে নৌবাহিনী কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনার একদিন পরই প্রশাসনের কঠোরতা দেখেছে সাংসদ হাজী সেলিমের পুত্র ইরফান সেলিম। দিনভর তার বাসায় অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমান আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে। অভিযান চালিয়ে দ্রুততম সময়ে সাজা দেয়া হয়েছে ইরফানকে।

 

হাজী সেলিমের বাড়িতে দিনভর অভিযান চালিয়ে বিদেশি মদ, অস্ত্র ও ওয়াকিটকি উদ্ধার করেছে র‍্যাব। এই ঘটনায় সেলিমপুত্র ইরফান এবং তার দেহরক্ষী মোহাম্মদ জাহিদকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

 

ইরফান ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের দ্বিতীয় ছেলে। এছাড়া তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। আর নোয়াখালীর এক এমপির জামাতা।

 

সোমবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা নাগাদ পুরান ঢাকার সোয়ারিঘাটে হাজী সেলিমের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ওই দুজনকে গ্রেপ্তারের পর এই দণ্ড দেওয়া হয়। ইরফান সেলিমের যে এক বছরের কারাদণ্ড হয়েছে তা শুধু অস্ত্র ও মাদক আইনে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের এখতিয়ার অনুযায়ী তাকে এই সাজা দিয়েছেন র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

 

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক আশিক বিল্লাহ জানান, মদ্যপান ও ওয়াকিটকি ব্যবহার করার অপরাধে ইরফান ও তার দেহরক্ষীকে ছয় মাস করে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই দণ্ডের পাশাপাশি দুজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটি মামলা দায়ের করা হবে।

 

র‍্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘বাড়িতে পাওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের কোনো লাইসেন্স নেই। আর ওয়াকিটকিগুলোও অবৈধ, কালো রঙের এসব ওয়াকিটকি শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যবহার করতে পারেন।’

 

রোববার রাতে ধানমণ্ডি এলাকায় হাজী সেলিমের গাড়ি থেকে নেমে নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় সোমবার একটি মামলা হয় থানায়।

 

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ রোববার রাত পৌনে ৮টার দিকে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে কলাবাগানের দিকে যাচ্ছিলেন। ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে সংসদ সদস্যের স্টিকার লাগানো একটি কালো রঙের ল্যান্ড রোভার গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১১-৫৭৩৬) পেছন থেকে তার মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়।

 

ওয়াসিফ ও তার স্ত্রী ধাক্কা সামলে মোটরসাইকেল থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে ওই গাড়ি থেকে জাহিদ, দিপু এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই-তিনজন ‘অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ’ করতে করতে নেমে আসে এবং ‘মারধর’ শুরু করে। তারা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ ও তার স্ত্রীকে ‘উঠিয়ে নেওয়ার এবং হত্যার’ হুমকি দেয় বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

 

নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের একদিনের মাথায়ই এই অভিযান চালানো হয়েছে। এছাড়া ইরফান সেলিমকেও কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। অপর দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, অপরাধ করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

 

গত কয়েক মাসে প্রশাসন ও সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী। প্রশাসন ও সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষেত্রে সরকার বেশি কঠোর। সিনহা হত্যার ঘটনা, ফরিদপুরের সাংসদ নিক্সনের নির্বাচন কমিশনকে তোপসহ বেশ কয়েকটি এমন ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিতে দেখা গেছে প্রশাসনকে।

 

এদিকে ইরফানকে কাউন্সিলর পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হবে কি-না জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার সচিব হেলালুদ্দিন আহমেদ বলেন, ইরফান সেলিম বা যে কোনো কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে আদালত কর্তৃক এমন সাজা প্রদানের অভিযোগ সিটি করপোরেশন কতৃক লিখিত আকারে মন্ত্রণালয় পেলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *