আজ সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিট; নির্ধারিত সময়ের বেশ কিছু অতিক্রান্ত এরই মধ্যে। ততক্ষণে আয়োজন-স্থানে হুড়োহুড়ি। নববধূ বেশে হাজির ঢাকাই সিনেমার আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণি।
এরপর আরও নাটকীয়তা, পালকিতে উঠে বসলেন বধূ, ব্যান্ডদল বাজিয়ে চলছে বিয়ের সানাই। তাদের সঙ্গে বরযাত্রী ও কনেযাত্রী হয়ে এলেন নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিমসহ অনেকেই। পরে পালকি থেকে নেমে স্বামী শরিফুল রাজের হাত ধরে মঞ্চে উঠলেন পরীমণি।
না, এটা রাজ-পরীর বিয়ের অনুষ্ঠান নয়। এই দম্পতির ‘গুণিন’ সিনেমার প্রিমিয়ারের দৃশ্য এটি। ৯ মার্চ সন্ধ্যায় রাজধানীতে এমন আয়োজন হয়েছে। ভেন্যু সাজানো হয়েছে বাঙালি বিয়ের অনুষ্ঠানে যা যা থাকে তার সবটুকু দিয়ে।
চরকি প্রযোজিত ‘গুণিন’ ছবির কাজ করতে গিয়েই রাজ ও পরীমণি সম্পর্কে জড়ান। এরপর মাত্র সাতদিনের ব্যবধানে চুপিসারে বিয়ে সেরেছেন তারা! ঘটনাটি গত বছরের ১৭ অক্টোবরের। এরপর দুই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘরোয়াভাবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
পরীমণি ভাষ্য, ‘গুণিনের মাধ্যমেই আমাদের পরিচয়। এই ছবিতেও বিয়ে করি আমরা। তাই আজকে এই সাজ। ধরতে পারেন এটা আমাদের বিয়ে-পরবর্তী সংবর্ধনার আয়োজন।’
শরিফুল রাজ বলেন, ‘বলতে গেলে তেমন আয়োজন করে তো আমাদের বিয়ে করা হয়নি। আজ সেটা হলো গুণিন ছবির মাধ্যমেই। কিন্তু পরীকে পেয়েছি। সেই গুণিনই আমাদের বিয়ের আয়োজন করল আবার। খুব ভালো লাগছে। আশা করি ছবিটি সবাই হলে গিয়ে দেখবেন।’
আগামী ১১ মার্চ দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে গিয়াস উদ্দিন সেলিম পরিচালিত ‘গুণিন’। নির্মাতা জানান, ছবিটির গল্প গ্রামীণ ওঝা রজব আলী গুণিনকে কেন্দ্র করে। তার আধ্যাত্মিক ক্ষমতা আছে। এর জোরে গ্রামে তার বিশাল প্রভাব। গুণিনের তিন নাতি রহম, আলী ও রমিজ। তার রহস্যজনক মৃত্যুর পরবর্তী পরিস্থিতিতে দুই নাতি তথা আপন দুই ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও ত্রিভুজ প্রেমের গল্পই এই চলচ্চিত্রের মূল উপজীব্য।
হাসান আজিজুল হকের ছোটগল্প ‘গুণিন’ থেকে নেওয়া হয়েছে ছবিটির প্রেক্ষাপট। এতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন আজাদ আবুল কালাম। বিভিন্ন চরিত্রে আরও আছেন দিলারা জামান, ইরেশ যাকের, মোস্তফা মনোয়ার, শিল্পী সরকার অপু, ঝুনা চৌধুরীসহ অনেকে।
