মাসুদ রানা, বাসাইল, (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের বাসাইলের গ্রাম-বাংলার চাষিদের মাঠজুড়ে প্রকৃতিতে অসাধারণ এক রূপ মেলেছে সূর্যমুখী ফুলে। মন কাড়া হলুদ ফুলে সেজেছে প্রকৃতি। এযেন অপরূপ দৃশ্য। মৌমাছির গুনগুন শব্দ মুখরিত সূর্যমুখী ফুলের মাঠ। হলুদ রঙের হাজারো ফুল মুখ করে আছে সূর্যের দিকে। সবুজ মাঠজুড়ে সূর্যের হাসিতে হাসছে বাসাইলের চাষিরা।
দেখতে সূর্যের মতো মুখ করে থাকে সূর্যের দিকে তাই এর নাম সূর্যমুখী। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দশর্নার্থীরা ভিড় করছেন সূর্যমুখী ফুলের সাথে ছবি তুলতে।স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা ভিড় করেছেন সূর্যমুখী ফুলের মাঠে।বিভিন্ন বয়সী মানুষ এসে ভিড় করছেন সূর্যমুখী ফুলের মাঠে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৫০ হেক্টর জমিতে চাষিরা সূর্যমুখীর আবাদ করেছেন। উপজেলার কাঞ্চনপুর এবং হাবলা ইউনিয়নে সূর্যমুখী ফুলের আবাদ বেশি হয়েছে।
সূর্যমুখী ফুল দেখতে আসা মাসুম মিয়া বলেন, সূর্যমুখী ফুল দেখতে সূর্যের মতো। মাঠ জুড়ে সূর্যমুখী ফুলের সমারোহ দেখতেই ভালো লাগছে।বন্ধুদের সাথে এসে সূর্যমুখী ফুলের সাথে ছবি তুলতে পারলাম। রোদের মধ্যে সূর্যমুখী ফুল গুলো চকচক করছে। জমিতে হাজারো সূর্যমুখী ফুল যেনো খেলা করছে।
সূর্যমুখী চাষি আলম খান বলেন, সূর্যমুখীর ভালো ফলন হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে ১কেজি বীজ আর ২০ কেজি সার দিয়েছিল। প্রতিটি সূর্যমুখী ফুল থেকে ২৫০-৩০০ গ্রাম বীজ হবে। ৫ কেজি সরিষায় সোয়া কেজি তেল হয়। আর ৫ কেজি সূর্যমুখী থেকে দেড় কেজি তেল হয়। সূর্যমুখীর তেল খুবই পুষ্টিকর আমাদের জন্য। প্রতি কেজি সূর্যমুখীর তেল ৩৫০-৪৫০টাকা বিক্রি করা যায়।এই মৌসুমে ৪০ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ করেছি।সরিষার চেয়ে সূর্যমুখীর বেশি ফলন হয়।
সূর্যমুখী চাষি ছোরহাব মিয়া বলেন, চলতি মৌসুমে ৫০ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখী ফুলের আবাদ করেছি।সূর্যমুখীর ফলন ভালো হয়েছে।সূর্যমুখীর তেল সরিষার চেয়ে বেশি পুষ্টিগুন। প্রতিটি ফুল থেকে ২৫০-৩০০গ্রাম বীজ পাওয়া যাবে। বাজারে সরিষা ও সয়াবিন তেলের চেয়ে সূর্যমুখীর তেলের চাহিদা বেশি।গতবছর সূর্যমুখী আবাদ করে লাভবান হয়েছিলাম। কৃষি অফিস থেকে ৩ কেজি বীজ ও ১০০ কেজি সার দেওয়া হয়েছিল।সূর্যমুখী আবাদে আমার ১৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
আশা করছি ৫০ শতাংশ জমিতে ১০ মণ সূর্যমুখীর বীজ হবে।প্রতি মণ ৩৫০০-৪০০০ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারবো।খরচ বাদে ২৫ হাজার টাকা লাভ থাকবে।সূর্যমুখীর ফুল দেখতে বিভিন্ন বয়সের মানুষ ভিড় করছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজনীন আক্তার জানান, উপজেলার ৫০ হেক্টর জমিতে চাষিরা সূর্যমুখীর আবাদ করেছেন। সূর্যমুখীর তেল সবচেয়ে ভালো মানের এবং স্বাস্থ্যসম্মত। চাষিরা সূর্যমুখী আবাদ করলে নিজেরাও তেল খেতে পারবে এবং বিক্রি করে লাভবান হতে পারবে। সূর্যমুখী থেকে ৪৫-৫০% তেল পাওয়া যায়। সরিষার থেকে ১০-১২% বেশি তেল হয়। অন্য সব তেলের চেয়ে সূর্যমুখীর তেলে পুষ্টিগুণ বেশি।বাজারে সূর্যমুখী তেলের চাহিদাও বেশি।চাষিদের বিভিন্ন প্রণোদনার মাধ্যমে সূর্যমুখীর বীজ ও সার দিয়ে থাকি।চাষিদের সূর্যমুখী আবাদে বিভিন্ন পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি।চাষিরা যেনো সূর্যমুখী আবাদ করে লাভবান হয় সে বিষয়ে পরামর্শ দেয়।
