কোনো সিরিজের আগে খেলা না খেলা নিয়ে সাকিব আল হাসানের টালবাহানার ইতি টানতে চায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বাংলাদেশের শীর্ষ ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতে, কোনো ক্রিকেটার যদি খেলতে চায় খেলবে, আর না খেলতে চাইলে খেলবে না।
শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অবস্থায় নেই সাকিব। এজন্য দক্ষিণ আফ্রিকা সফর থেকে বিরতি চেয়েছেন। দলে থাকার পরও সফরে যাওয়ার সপ্তাহখানেক আগে সাকিবের এমন অপেশাদার আচরণে রীতিমতো বিরক্ত বিসিবির পরিচালক ও জাতীয় দলের টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন।
মঙ্গলবার মিরপুর হোম অব ক্রিকেটে খালেদ মাহমুদ বলেছেন, ‘এখন ফুলস্টপের সময় চলে এসেছে। যথেষ্ট হয়েছে। আপনি বিসিবিকে চালাতে পারেন না। চাইলেই কেউ বলতে পারে না যে আমি খেলব কিংবা খেলব না। কেউ যদি খেলতেই চায় তাহলে ঠিকমতো খেলতে হবে। যদি খেলতে না চায় তাহলে বলে দিতে হবে। যদি বিরতি চায়, তাহলে একবারে বিরতি নিক। কেউ তাকে আটকাবে না। প্রেসিডেন্টও বলতে চেয়েছিলেন এভাবে। হয়তো বা তিনি একটু আস্তে বলেছেন। আমি একটু জোরে।’
সাকিবকে নিজের সিদ্ধান্ত জানাতে বিসিবি দুই দিন সময় দিয়েছে। এখন বোর্ড তার সিদ্ধান্ত জানার অপেক্ষায়। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিসিবি নেবে বলেই জানালেন খালেদ মাহমুদ।
তিনি বললেন, ‘নিশ্চিতভাবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিসিবি নেবে। বিসিবির প্রোডাক্ট ওরা। বিসিবি ওদের প্রোডাক্ট না। বিসিবি কোনো ব্যক্তির জন্য না। বিসিবির জন্যই ওরা। নিশ্চিতভাবেই ওরা বাংলাদেশ ক্রিকেটের মূল স্টেকহোল্ডার। কিন্তু এই স্টেকহোল্ডারের জন্য তো বিসিবির অনেক বিনিয়োগ ছিল। অনূর্ধ্ব-১৪, ১৫, ১৭… তাদেরকে তৈরি করে তোলা, এই করা সেই করা। তাদের পেছনে তো বিসিবি অনেক খরচ করেছে সেই সময়। ঠিক না! বিসিবি তো তাদের অভিভাবক। আমাদের সবার অভিভাবক বিসিবি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ওপর আমরা কেউ না, তারাও না।’
এসময় সুজন বলেন, সাউথ আফ্রিকা সিরিজে সাকিবের না থাকায় দলে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না। পরিকল্পনার পরিবর্তন আসবে, কিন্তু দলে তার না থাকাটা কোনো প্রভাব ফেলবে না।
সুজন বলেন, ‘‘আমরা তো প্ল্যান ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ কতো প্ল্যানই তো রাখি। তো আমরা সেভাবেই করব। প্ল্যান ‘এ’ না হলে প্ল্যান ‘বি’ তে আমরা যাব। আসলে সাকিব থাকলে এক রকম, সাকিব না থাকলে আরেক রকম। সাকিবকে ছাড়া আমরা টেস্ট ম্যাচ জিতেছি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। তামিম সাকিব কেউ ছিল না, রিয়াদ ছিল না। তারপরও তো বাংলাদেশ জিতেছে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘এমন না যে সাকিব না থাকলে প্ল্যান হবে না। ডেফিনেটলি প্ল্যান চেঞ্জ হবে। সাকিব থাকলে হয়তো আমরা একটা বোলার বা ব্যাটসম্যান বেশি নিয়ে খেলতে পারি। সেটা আমাদের জন্য একটা বাড়তি সুবিধা, যেটা সাকিব না থাকলে হয় না। আমরা চেষ্টা করব আমাদের বেস্ট পসিবল দলটা নিয়েই খেলতে।’
