সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বলেছেন, তাঁর সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কোনো ভুল বুঝেছেন কি-না সেটির পরোয়া করেন না তিনি। একই সঙ্গে বাইডেনের নিজের দেশের স্বার্থের ব্যাপারে মনোনিবেশ করা উচিত বলে মনে করেন সৌদি যুবরাজ।
বৃহস্পতিবার মার্কিন দৈনিক দ্য আটলান্টিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেছেন মোহাম্মদ বিন সালমান। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।
বাইডেন তাঁর (যুবরাজ) সম্পর্কে কিছু ভুল বুঝেছেন কি-না প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, ‘সাধারণভাবে, আমি কোনো পরোয়া করি না। আমেরিকার স্বার্থ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করাটা বাইডেনের বিষয়।’
যুবরাজ আরও বলেন, ‘আমেরিকায় বক্তৃতা দেওয়ার অধিকার আমাদের নেই। একই বিষয় অন্যদের ক্ষেত্রেও।’
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। কিন্তু ২০২১ সালে নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন দায়িত্ব নেওয়ার পর সৌদি আরবের মানবাধিকার রেকর্ড এবং ইয়েমেন যুদ্ধে দেশটির জড়িত থাকার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।
বাইডেন প্রশাসন ২০১৮ সালে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশুগজি হ ত্যার ঘটনায় যুবরাজ সালমানকে জড়িয়ে একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। কিন্তু খাশুগজি হ ত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিন সালমান।
যুক্তরাষ্ট্র রাজবন্দিদের মুক্তি দেওয়ার জন্যও সৌদি আরবের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এমনসব আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে ‘দ্য আটলান্টিক’ ম্যাগাজিনের সাক্ষাৎকারে বিন সালমান বলেছেন, ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে জামাল খাশুগজি হ ত্যার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল ওঠায় তার কাছে মনে হয়েছে যেন নিজের অধিকারই লঙ্ঘন হয়েছে।
সৌদি যুবরাজ বলেন, “আমি মনে করি মানবাধিকার আইন আমার বেলায় প্রযোজ্য হয়নি… মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রের আর্টিকেল ১১ অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তির দোষ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত সে নির্দোষ।”
