বাংলাদেশি হাদিসুরের মৃত্যুতে রাশিয়ার শোক, দায় দিল ইউক্রেনকে

ইউক্রেনের অলিভিয়া বন্দরের বহির্নোঙরে থাকা বাংলাদেশি মালিকানাধীন জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’তে রকেট হামলায় হাদিসুর রহমানের নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে রাশিয়া।

বন্দরের ৩৩৬ অ্যঙ্কারেজে বুধবার রাতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এর জন্য কিয়েভকে দায়ী করেছে মস্কো।

ঢাকার রাশিয়া দূতাবাস বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শোক জানায়।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশের নাগরিক ও বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমান অলিভিয়া বন্দরে কর্মরত অবস্থায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন। এটা হতাশাজনক ও বেদনাদায়ক।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘আমরা মরহুমের আপনজনের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করছি। বন্দর থেকে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ প্রস্থান নিশ্চিত করতে রাশিয়া সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।’

এতে আরও বলা হয়, পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। রুশ কমান্ডাররা নজর রাখছেন। ইউক্রেনের জাতীয়তাবাদীরা নির্বিচারে এ ধরনের হামলা ও অগ্নিসংযোগ চালাচ্ছে। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে সাধারণ মানুষকে বন্দি করে মানবঢালে পরিণত করছে।

দূতাবাস জানায়, ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান থেকে উদ্ভূত মানবিক সমস্যা সমাধানের জন্য বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেয়ার অনুরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাহায্য পেতে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় হটলাইন (+7495 498-34-46, +7495) চালু করেছে। ই-মেইলেও (gumvs@mil) সাহায্যের আবেদন করা যাবে।

ইউক্রেনে যুদ্ধের মধ্যে দেশটির অলভিয়া বন্দরের জলসীমায় আটকে পড়া বাংলাদেশি জাহাজ ‘এমভি বাংলার সমৃদ্ধি’ গোলার আঘাতের শিকার হয়েছে। এতে জাহাজটিতে বিস্ফোরণ হয় এবং আগুন ধরে যায়। বাংলাদেশ সময় গতকাল রাত ১০টা থেকে সোয়া ১০টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রকৌশলী হাদিসুর রহমান নিহত হন।

ইউক্রেন যুদ্ধে কোনো বাংলাদেশি নিহতের ঘটনা এটিই প্রথম। সাত দিন আগে শুরু হওয়া রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার যুদ্ধে এরই মধ্যে অনেক মানুষ হতাহত হয়েছে।

হাদিসুর বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামের রাজা হাওলাদারের ছেলে। তিন ভাই এবং এক বোনের মধ্যে হাদিসুর মেজো (ভাইদের মধ্যে বড়)। তার বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল বলে জানান পরিবারের সদস্যরা। বাবা রাজা হাওলাদার একটি দাখিল মাদ্রাসায় চাকরি থেকে অবসরে গেছেন।

নিহত হাদিসুরের ছোট ভাই কবি নজরুল ইসলাম কলেজের অনার্স প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষার্থী গোলাম মাওলা প্রিন্স জানান, বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টার দিকে তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন হাদিসুর। এ সময় ভালোভাবে পরীক্ষায় প্রস্তুতি নিতে বলেন ছোট ভাই গোলাম মাওলা প্রিন্সকে। মুহূর্তের মধ্যেই বিকট শব্দ শোনা যায়। এরপর আর কথা বলেননি হাদিসুর।

বরগুনা জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান জানান, মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তিনি আরও বলেন, মরদেহ যাতে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা যায় সে ব্যাপারে সরকার যথেষ্ট আন্তরিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *