স্বামীকে তালাক না দিয়ে বিয়ের অভিযোগে নায়িকা পরীমণি ও অভিনেতা শরিফুল রাজকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন কুমিল্লার এক আইনজীবী। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে জবাব না দিলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে নোটিশে।
মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কুমিল্লা জজ কোর্টের আইনজীবী জয়নাল আবেদীন মাযহারী পরীমণি ও রাজকে পাঠানো নোটিশের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে এই নোটিশের বিষয়ে আজ বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লাইভে এসে হিরো আলম বলেছেন, দশ বছর আগে যদি পরীমনির বিয়ে হয়ে থাকে, এতদিন পর কেন আপনি উকিল নোটিশ পাঠাবেন? এর আগে যখন বিয়ে করেছিল তখন আপনি কোথায় ছিলেন? এখন নিশ্চয়ই ভাইরাল হওয়ার জন্য এই কাজ করছেন, না হলে মোটা অংকের টাকা চান!
এ বিষয়ে হিরো আলম আরও বলেন, আপনারা তো সবাই জানেন উনি (পরীমনি) সন্তানসম্ভবা, মা হতে চলছে। এই দুঃসময়ের কেন ভাই আপনি হট্টগোল পাকালেন? এর আগেও তো আমার আপু দুই তিনটি বিয়ে করছে, তখনতো উকিল নোটিশ দিলেন না?
পরীমনিকে সাবধানতা অবলম্বন করার ইঙ্গিত দিয়ে হিরো আলম বলেন, বিয়ে করবেন সমস্যা নাই, পথ ক্লিয়ার করে বিয়ে করেন। যাতে কেউ কথা না বলতে পারে। জানেন তো- আমরা ভাইরাল পারসন, কিছু করলে বাতাসের আগে ছড়ায়। এতে আমাদের সম্মানের ক্ষতি হয়। তাই বিয়ে করার আগে পথ ক্লিয়ার করে বিয়ে করতেন।
তামিমা আর নাসিরের উদাহারণ টেনে কুমিল্লা বারের ওই আইনজীবীর উদ্দেশে হিরো আলম বলেন, তামিমার আগের স্বামীকে তালাক না দিয়ে বিয়ে করার মামলা করেছে। ওই ঘটনায় তোলপাড় হয়ে গেছে। এ রকম কোন ইস্যু বানিয়ে আপনি কি ভাইরাল হতে চান? নাকি টাকা চান? দেশে কী পরিস্থিতি শুরু হয়ে গেল বুঝলাম না, ডিভোর্স না দিয়ে বিয়ে করছে। যাই হোক, আপনারা কেউ আর এমন ভুল করবেন না।
একই লাইভে নিজের কাজ প্রসঙ্গেও হিরো আলম জানান, সামনে তার তিনটি সিনেমা মুক্তি পাবে। সিনেমাগুলো- বউ জামাইয়ের লড়াই, নষ্টের কষ্ট এবং টোকাই। এছাড়াও মার্চ মাস থেকে নতুন সিনেমার কাজ শুরু করবেন তিনি। কলকাতাতেও সিনেমা নির্মাণ করবেন।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে পরীমণি ও রাজকে পাঠানো নোটিশের বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের জানান, গত ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল নায়িকা পরীমণি যশোরের কেশবপুর এলাকার যুবক ফেরদৌস কবির সৌরভের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন৷ তখন তাদের বিয়ের কাবিন ছিল ১ লাখ টাকা দেনমোহর। বিয়েটি রেজিষ্ট্রি হয় কেশবপুর শহরের অফিসপাড়ার পাবলিক ময়দান এলাকার ফাতেমা মঞ্জিলে এবং পৌরসভার কাজী এম ইমরানের হোসেনের মাধ্যমে। অথচ পরে ওই বিয়ের ডিভোর্স ছাড়াই পরীমনি গত বছর ১৭ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার শরীফুল রাজের সাথে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন। তার এ বিয়ে বেআইনি বলে দাবি তুলেছেন এ আইনজীবী।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন পরীমণি ও রাজ। যেখানে উল্লেখ করা হয়, পরীমণি পরের বিয়েটি ১০১ টাকা দেনমোহরে কাবিন করা হয়েছে। রাজ ও পরীমনি দুজনকেই আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে উল্লেখ করে এ আইনজীবী বলেন, আমি জানতে চেয়েছি পরীমণি তার আগের বিয়েতে ডিভোর্স না দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন কীভাবে।
এছাড়াও যখন সন্তান সম্ভবা তখন দ্বিতীয় বিয়ের কথা মিডিয়াতে প্রচার করেছেন কেনো? আমি নিশ্চত হয়েছি তার প্রথম বিয়ের ডিভোর্স হয়নি এবং দ্বিতীয় বিয়েরও বৈধতাও নেই। দেশের প্রচলিত আইনে তারা অপরাধ করেছেন। এছাড়াও সন্তান সম্ভাবা হয়ে পড়ে বিয়ে করে পরীমণি মুসলিম রীতিনীতি ভঙ্গ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, যদি তাদের কাছে এর পক্ষে বৈধ কাগজপত্র থাকে তাহলে তা জনসম্মুখে আনতে হবে। না হয় আগামী সাত কর্মদিবসে যদি নোটিশের জবাব না পাই তাহলে আমি আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।
কেন এই আইনি নোটিশ? এ বিষয়ে ওই আইনজীবী বলেন, আমি কোনো আলোচনায় আসতে এমনটি করিনি, বিবেকের তাড়নায় করেছি। এটা আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
