সাবেক রাষ্ট্রদূত খায়রুজ্জামান মালয়েশিয়ায় মুক্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার এম খায়রুজ্জামান আদালতের নির্দেশে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

বুধবার (১৬ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় গণমাধ্যম ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে এ খবর প্রকাশ করেছে।

এর আগে মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) মালয়েশিয়ার উচ্চ আদালতের বিচারক মো. জাইনি মাজলান এক আদেশে খায়রুজ্জামানকে বাংলাদেশের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে স্থগিতাদেশ দেন। এর একদিন পরেই কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন খায়রুজ্জামান।

খায়রুজ্জামানের স্ত্রী রিটা রহমানের বরাত দিয়ে ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে অনলাইন জানিয়েছে, মুক্তি পাওয়ার পর খায়রুজ্জামান তার স্ত্রীকে ফোন করে এই খুশির খবর জানান।

রিটা রহমান বলেন, তিনি (খায়রুজ্জামান) আমাকে ফোন করে বলেছেন আইনজীবীরা তাকে রিসিভ করে বাড়িতে পৌঁছে দিতে সেখানে রয়েছেন।

ফ্রি মালয়েশিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিটা রহমান বলেন, সৃষ্টিকর্তাকে এবং তার মুক্তিতে সহায়তাকারী সবাইকে ধন্যবাদ। এই জন্য মালয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষকেও ধন্যবাদ জানাই।

খায়রুজ্জামানের আইনজীবী জিও চৌ ইং বলেন, কোনো ধরনের শর্ত ছাড়াই তিনি মুক্তি পেয়েছেন। তিনি এখন একজন স্বাধীন মানুষ।

তিনি জানান, স্থানীয় সময় ১টার দিকে খায়রুজ্জামানের মুক্তির ব্যাপারে তাদেরকে অবহিত করে তাকে (খায়রুজ্জামান) রিসিভ করতে যেতে বলা হয়।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার খায়রুজ্জামানকে ৯ ফেব্রুয়ারি দেশটির কুয়ালালামপুরের আম্পাং এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান ১৯৭৫ সালের জেল হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন। ২০০৭ সালে খালাস পেয়ে মালয়েশিয়ায় রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত হন তিনি।

তার আগে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাকে অবসরে পাঠানোর পাশাপাশি জেলহত্যা মামলার আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর তিনি জামিনে বের হয়ে আসেন।

কিছুদিন পর চাকরি ফিরে পেয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন। ২০০৪ সালে তিনি জেলহত্যা মামলা থেকে অব্যাহতি লাভ করেন। ২০০৫ সালে তিনি মিয়ানমারে বাংলাদেশ দূতাবাসে নিয়োগ পান।

কিন্তু ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর খায়রুজ্জামানকে ঢাকায় ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হলে তিনি দেশে ফিরতে অস্বীকার করে মালয়েশিয়ায় চলে যান। এরপর তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট বাতিল করে সরকার।

‘জীবনের ঝুঁকি’ আছে এমন দাবি করে কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) কাছে আবেদন করেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে খায়রুজ্জামান মালয়েশিয়ায় আশ্রয় পান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *