সরকারের নির্দেশে আমরা কাজ করেছি: সোহানুর রহমান সোহান

নানা নাটকীয়তা শেষে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে চিত্রনায়িকা নিপুণকে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান সোহান জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করে নিপুণকে সাধারণ সম্পাদক পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ঘোষণা করেছেন।

এদিন রায় ঘোষণার পর সোহানুর রহমান সোহান সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি এ সময় বলেন, ‘২৮ তারিখ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় কিন্তু ফল ঘোষণা হয় ২৯ তারিখ। নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী পরদিন হলো আপিল করার সময়। তাহলে ৩০ তারিখ হলো আপিল করার সময়। তারপরও আমরা ২৯ তারিখে আপিল বোর্ডের চিঠি পেয়েছি। ভোট গণনার ব্যাপার ছিল, সেটা করে দেখেছি। সেটা ঠিক ছিল।’

তিনি বলেন, ‘আপিলকারীর অভিযোগ ছিল। সেই সব বিষয়গুলো নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা সাহায্য চেয়েছিলাম। সেখান থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে এবং সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা আজকে ফলাফল ঘোষণা করলাম।’

জায়েদ খানের কাছে এই সিদ্ধান্তের গুরুত্বের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সে কি বলছে না বলছে সেটাকে কোনো ভ্রুক্ষেপ করার মতো অবস্থা আমাদের নেই। আমরা আমাদের সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করেছি।

এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে ইলিয়াস কাঞ্চন নির্বাচিত হলেও সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদ খানের জয়ী হওয়া নিয়ে শুরু থেকেই জল ঘোলা হচ্ছিল। নির্বাচনের পর থেকেই কাঞ্চন-নিপুণ পরিষদ অভিযোগ করে আসছে টাকা দিয়ে ভোট কিনেছেন জায়েদ খান।

গত ২৮ জানুয়ারি এফডিসিতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের এই নির্বাচন ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। ভোটের আগেই দুপক্ষের কাদা ছোড়াছুড়ি হয়। ভোটগ্রহণের পরদিন ভোরে ফল ঘোষণা করে সমিতির নির্বাচন কমিশন।

২০২২-২৪ কার্যকরী পরিষদের এ নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হন ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মিশা সওদাগরকে হারান ৪৩ ভোটে।
সাধারণ সম্পাদক পদে দুটি প্যানেল থেকে লড়াই করেন জায়েদ খান ও নিপুণ। জায়েদ খান ১৭৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।। আর নিপুণের পক্ষে ভোট পড়ে ১৬৩টি।

ভোটে সভাপতি পদ নিয়ে বিতর্ক না থাকলেও জায়েদ খানের সাধারণ সম্পাদকের পদ নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। ভোটের সময় নিপুণ তার বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ আনেন। পরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চনকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে একই অভিযোগ করেন তিনি।

ওই সংবাদ সম্মেলনে ভোট বাতিল দাবি করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পীরজাদা শহিদুল হারুনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনেন তিনি। তার কাছে পীরজাদা হারুন ভোটের দিন চুমু চেয়েছিলেন বলে দাবি করেন নিপুণ। অবশ্য হারুন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

পরে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত জায়েদ খান ও কার্যকরী পরিষদ সদস্য পদে নির্বাচিত চুন্নুর প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন করা হয়েছিল।

এ আবেদনটি করেন পরাজিত প্রার্থী নিপুণ। এরপর প্রার্থিতা বাতিলের অভিযোগের দিকনির্দেশনা চেয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠান চলচ্চিত্র সমিতির নির্বাচনের আপিল বোর্ডের প্রধান সোহানুর রহমান সোহান।

আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যানকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বলে মন্ত্রণালয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এফডিসিতে আসেন নিপুণ, আপিল বোর্ডের সদস্য সোহানুর রহমান সোহানসহ অনেকে।

এফডিসির বৈঠকে জায়েদের প্রার্থিতা বাতিল করে তার পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিপুণকে জয়ী ঘোষণার সিদ্ধান্ত আসে। সন্ধ্যায় বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনে জানান সোহানুর রহমান সোহান। এ জয়কে অভিনেত্রী নিপুণ ‘সত্যের জয়’ বলে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *