টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় জায়েদ খানের সম্পাদক পদ বাতিল ঘোষণা করে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে নিপুণকে।
শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে এমনটাই ঘোষণা করেন নির্বাচনের আপিল বোর্ডের প্রধান সোহানুর রহমান সোহান। একই অভিযোগে নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত সদস্য চুন্নুর প্রার্থিতাও বাতিল করা হয়। আর সেই পদে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় নাদির খানকে।
এদিকে আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর বোর্ডের চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান সোহান গণমাধ্যমকে বলেছেন, নির্বাচনে কোনো পক্ষ থেকেই চাপ আসেনি। তবে একদিন জায়েদ খান অনুরোধ করে বলেছিল, আমি আপনার ছোট ভাই হই, আপনি আমাকে একটু দেখেন। জায়েদ খান তাকে নানাভাবে ‘কনভিন্স’ করার চেষ্টা করেছেন উল্লেখ করে আরও বলেন, সে (জায়েদ খান) একপর্যায়ে বলে ফেলে, আপনার বাচ্চার কসম, আপনি কত টাকা খাইছেন?
এ কথা শোনার পর ‘কেমন জানি’ হয়ে গিয়েছিলেন বলে জানান সোহানুর রহমান সোহান। তারপর বাসায় গিয়ে ঘুমের ওষুধ খেয়ে শুয়ে পড়েন বলে জানিয়েছেন।
এ সময় তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, আজকে (শনিবার) জায়েদ খানের এফডিসিতে না আসা, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ খণ্ডন না করা; এর মানে কী এ নয়, তার মধ্যে অপরাধবোধ কাজ করছে।
আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্তের বিষয়ে জায়েদ খান উচ্চ আদালতে যেতে পারবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, হ্যাঁ, অবশ্যই যেতে পারবে। তিনি মিশা-জায়েদ প্যানেলের পক্ষে কাজ করেছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে সোহান বলেন, ঢাহা মিথ্যে কথা।
সোহানুর রহমান সোহান জানিয়েছেন, ভোট গণনার সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার পীরজাদা হারুন তাকে বের করে দেয়। ওই সময় পীরজাদা হারুন নাকি বলেছেন, আমি চাই না আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান এখানে থাকুক।
যদিও আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান সব জায়গায় উপস্থিত থাকতে পারেন বলে উল্লেখ করেন সোহানুর রহমান সোহান। আরও বলেন, পুনরায় ভোট গণনার পর আবারও আপিল বোর্ডের কাছে অভিযোগ করেন নিপুন। এরপর আমরা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ নিয়ে চিঠি চালাচালি করি। তারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আপিল বোর্ডকে পূর্ণ ক্ষমতা দেয়।
উল্লেখ্য, গত ২৮ জানুয়ারি হয়ে যাওয়া শিল্পী সমিতির ২০২২-২৪ মেয়াদের নির্বাচনে সভাপতি পদে জয়ী হয়েছেন কিংবদন্তি নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। গত দুই মেয়াদের সভাপতি মিশা সওদাগরকে হারিয়ে তিনি নির্বাচিত হন।
