চিত্রনায়িকা নিপুণ আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছেন চিত্রনায়ক জায়েদ খান। এই অভিনেত্রীর নামে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তিনি মামলা দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন।
সোমবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এফডিসিতে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি জানান জায়েদ খান নিজেই।
জায়েদ বলেন, নিপুণের বিরুদ্ধে আমি বাদী হয়ে ডিজিটাল আইনে মামলা করবো। কারণ, ডিজিটাল আইনে স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ আছে কোনো সমর্থিত সূত্র কিংবা সত্যিকারের সাক্ষ্য প্রমাণ ছাড়া কারো ছবি, কারো লেখা আপনি কোনো ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে কোনো অপপ্রাচার বা মিথ্যা প্রচার চালাতে পারবেন না। আমি মনে করি, যিনি সংবাদ সম্মেলনে স্ক্রিনশটগুলো দেখিয়েছেন, শুধু তিনি না- তারসাথে যারা সহায়ক হিসেবে ছিলেন, সবার নামে আমি একটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করবো।
জায়েদ বলেন, ‘টাকা দিয়ে ভোট কিনেছি, এটা একটা মিথ্যে অভিযোগ। আর আমার স্ক্রিনশটটি তিনি যাচাই বাছাই না করে আমার নাম বলে নিজে পড়ে দেশবাসীর সামনে আমাকে ছোট করেছেন। এটা একটা মানহানিকর কাজ। আমি আমার আইনজীবীর সাথে কথা বলেছি, তিনি নিপুণের সংবাদ সম্মেলনের ভিডিওটি দেখছেন। তার পরামর্শেই আমরা মামলাটি গুছাচ্ছি। আজকে না হলেও আগামিকাল আমরা মামলাটি করবো।’
জায়েদ একটি স্ক্রিনশট দেখিয়ে বলেন, উনি যে অভিযোগ করেছেন তা একদমই সত্য না। ওই স্ক্রিনশটটি নির্বাচনের একদিন আগেই আমার কাছে পৌঁছে গিয়েছিল যেভাবেই হোক। সাইবার স্পেশাল টিমের কাছে আমি লিখিতভাবে অভিযোগ ও স্ক্রিনশটটি পৌঁছে দেই। তারা দুই-তিন দিন তদন্ত চালিয়ে আমাকে রোববার আমাকে ডেকে বললেন যে, এই স্ক্রিনশটটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এনং বানোয়াট। বললেন আমাকে বলা হয়েছিল যে, এটি দিয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হতে পারে। সাইবার সিকিউরিটি টিমের ডিসি শরীফুল ইসলামের কাছে আমি অভিযোগ দিয়েছিলাম। তিনিই আমাকে বলেছেন যে, এগারোটি অ্যাপ দিয়ে ওইসব ভুয়া স্ক্রিনশট তৈরি করাস হয়েছে। এর পেছনে কারা জড়িত তাদের বের করতেও তিনি সহায়তা করবেন বলে জানিয়েছেন।
জায়েদ খান আরও বলেন, আমি আবারও দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই, এটা সম্পূর্ণ ফেক, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এই কাজ করা হয়েছে। আমি এগুলো প্রথমেই বুঝতে পেরেছিলাম। এজন্য, গত ২০ জানুয়ারি আমি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটা সাধারণ ডায়েরি করে রেখেছিলাম। সেখানে সাদিয়া মির্জা, ফিরোজ শাহী, এবং বেবি নামের তিনজন লোকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এরা শিমু হ’ত্যার সময় থেকেই শিল্পী সমিতির নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে তৎপর ছিল।
জায়েদ খান বলেন, আমাদের একজন সহকর্মীর মৃত্যুর পর থেকেই নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি চক্র বিভিন্নভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে নানা রকমের অপপ্রচার চালিয়েছে।
জায়েদ খান বলেন, এই তিনজন ইউটিউবে লাইভে গিয়ে বলেছে যে, তারা এফডিসি গেটে শিমুর সাথে আমাকে মারা’মারি করতে দেখেছে। ওরা বলেছে যে, আমি নাকি হ’ত্যা করেছি। তখনই তাদের বিরুদ্ধে আমি অভিযোগ করার সিদ্ধান্ত নিই। তখনই বুঝেছি নির্বাচন পর্যন্ত এরকম ষড়যন্ত্র চলতেই থাকবে। আমি পরাজিত হলে অনেক অভিযোগ আর আসতোই না। কিন্তু যেহেতু বিজয়ী হয়েছি, তাই বিভিন্নভাবে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে আমার সহকর্মীরা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
