নতুন বছরের প্রথম মাসেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করলেন শরিফুল রাজ এবং পরীমণি। নায়িকার বাড়িতেই বসেছিল বিয়ের আসর। নায়ক-নায়িকার বিশেষ দিনের সাক্ষী হলেন তাঁদের পরিবার-পরিজন এবং কাছের বন্ধুরা।
চলতি মাসের শুরুর দিকে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন পরীমণি। তাই করোনা পরিস্থিতিতে যথেষ্ট সতর্কতা মেনে বিয়ের অনুষ্ঠান সেরেছেন তাঁরা। আমন্ত্রিতদের তালিকাও বিশেষ দীর্ঘ নয়।
বিশেষ দিনে পরীমণির সঙ্গী হয়েছিলেন তাঁর মামা, মামি এবং দাদু। ছিলেন চয়নিকা চৌধুরীও। যাঁকে পরীমণি মা বলে ডাকেন। রাজের সঙ্গে এসেছিলেন তাঁর মা, বাবা এবং ভাই-বোন। এ ছাড়াও ইন্ডাস্ট্রির কয়েক জন সহকর্মীও সামিল হয়েছিলেন আনন্দ-উৎসবে।
তবে এই আনুষ্ঠানিক বিয়েতে রাজ-পরীর একটি ছবি নিয়ে নানান আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। আর এই বিষয়টি বেশ নাড়া দিয়েছে সংগীতশিল্পী, উপস্থাপিকা ও লেখিকা সাজিয়া সুলতানা পুতুলকে। এ নিয়ে নিজের ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন পুতুল। যা এরইমধ্যে নেটিজেনদের কাছে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে।
পুতুল তার পোস্টে লেখেন, ‘পরীমণিকে কখনো লেখার প্রসঙ্গ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়নি বলে কখনো লিখিনি কিছুই। মানুষ তার স্বাধীন সত্তায় বাঁচবে এই বিশ্বাসের মানুষ আমি। মানুষের ব্যক্তিগততায় তাই কৌতূহলী হই না। কিন্তু এই ছবিটা চোখে পড়ার পর তাকিয়ে ছিলাম অনেকক্ষণ। ছবিটা যদিও একটা কৌতুকে পরিণত হয়েছে এরই মধ্যে। কিন্তু ছবির মনস্তত্ত্বটা একটু অন্যরকম।’
এই গায়িকার ভাষ্য, ‘একজন নারী যখন সমাজে নিন্দিত হতে হতে অসম্মানের তলানিতে চলে যায়, অনেক কিছু সয়ে আসা একজন নারী যখন সমাজের পুরুষদের কাছ থেকে গালি ছাড়া আর কিছুই প্রত্যাশা করার সাহস হারিয়ে ফেলে, জীবনের নানান বাঁক দেখে আসা একজন নারী যখন সর্বস্তরে কৌতুকের বিষয় হয়ে যায়, তখন জীবনের বিশেষ একটা মুহূর্তে চোখে জল আসা খুব স্বাভাবিক, তা পর্দার জীবনে তিনি যতো বড় অভিনেত্রীই হোন না কেনো। এই ছবিটায় তিনি একা বসে নেই, তার ভিতরে আরেকটা প্রাণের অস্তিত্ব।’
নায়িকা পরীমণিকে উদ্দেশ্য করে গায়িকা পুতুল লেখেন, ‘পুরুষশাসিত সমাজে নানান রঙের পুরুষের ভিড়ে সবচাইতে বিশ্বস্ত এবং নির্ভরযোগ্য মনে হওয়া পুরুষটিকে পাশে নিয়ে একটা বিশেষ মুহূর্ত উদযাপনের সময় তার মনে হয়তো যতোটা না আনন্দ ছিলো, সেরকমই ছিলো কিছু হাহাকার আর স্মৃতি রোমন্থন। সেই স্মৃতি অবশ্যই সুখস্মৃতি নয়। বিয়ের আসরে বসে অভিভাবকহীন একটা সাধারণ মেয়ের যে হাহাকার জাগতে পারে, যে মুখগুলো চোখে ভাসতে পারে, তার ক্ষেত্রেও হয়তো তা হয়েছে।’
পুতুলের ভাষায়, ‘এখানে তাকে আক্রমণ করার সবচেয়ে সহজ অস্ত্রটি হলো, এই অনুভূতি তো তার জীবনে প্রথম নয়। আরও একাধিকবার বিয়ের পিঁড়িতে বসার অভিজ্ঞতা তো তার আছে। কিন্তু একটা জীবন যখন কঠিন থেকে কঠিনতর হতে থাকে তখন মানুষের অনিশ্চয়তা বাড়তে বাড়তে আকাশ ছোঁয়। সেখানে আপাতদৃষ্টিতে একটা নিশ্চিন্ত সমাধানের পথ খুঁজে পেলে সেই কান্নাটা আনন্দেরও হতে পারে।’
পুতুল লেখেন, ‘তার এই কান্না বেদনার নাকি আনন্দের তা নির্ধারণ করা সমাজের কাজ নয়। আপাতত অভিনন্দন আর শুভকামনা জানানো যেতেই পারে পরীমণিকে। যে- কাঙ্ক্ষিত ভালোবাসার খোঁজ করতে করতে জীবনটা এতোটা নাটকীয় হলো, তা এবার সত্যি হয়ে ধরা দিক।’
