সংলাপে খালেদার চিকিৎসা নিয়ে রাষ্ট্রপতির পদক্ষেপ চাইলেন পার্থ

নজর২৪ ডেস্ক- মানবিক কারণসহ ভবিষ্যতে রাজনীতিবিদ, রাজনৈতিক দলসমূহের সৌহর্দপূর্ণ সম্পর্ক এবং দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার বিষয়টি মন্ত্রিসভায় পেশ করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)।

বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) রাত ৯টায় বঙ্গভবন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের এ দাবির কথা জানান দলটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ।

সংলাপ থেকে বেরিয়ে পার্থ বলেন, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে বলেছি, আমরা নির্বাচনের পরিবেশসহ প্রাসঙ্গিক সব বিষয়ে কথা বলতে চাই। সেক্ষেত্রে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বিষয়টা এখন জনগুরুত্বপূর্ণ। কোনো কারণে আল্লাহ না করুক কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা যদি ঘটে, রাজনৈতিক পরিবেশ পরিস্থিতি থেকে শুরু করে সব বিষয়ে একটা প্রভাব আসবে।

‘এজন্য মানবিক কারণের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ রাজনীতি, রাজনীতিবিদ ও সব দলের সঙ্গে সম্পর্ক মাথায় রেখে আমি মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করেছি উনার (খালেদা জিয়া) সুচিকিৎসার জন্য যে ব্যবস্থাটা, ব্যাপারটা যেন উনি কেবিনেটে নেন।’

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তা কী আইন অনুসারে হবে; কারণ আইন তো সবার জন্যই সমান- এমন এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সবার জন্য সবার না। আইনের মধ্যে অনেক জায়গা রয়েছে। যেখানে বলা আছে নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হবে।’

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে রাষ্ট্রপতি কোনো আশ্বাস দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না। উনি কিছুই বলেননি।’

পার্থ বলেন, ‘তখন আমি উনাকে বললাম, অনেকেই বলেন, সরকার অনেক কিছু করেছে। আমার প্রশ্ন হল সরকার কি করে না করে সেটা পরের কথা। রাষ্ট্রপতি একটা আলাদা প্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্রপতির এই যে নীরব ভূমিকা সেটা প্রতিষ্ঠানটিকেই অনেক ক্ষেত্রে প্রশ্ন করে।’

তিনি বলেন, ‘এখানে যে সাতটি রাজনৈতিক দল আসেনি তাদেরকে অনেক ক্ষেত্রেই আপনি দোষারোপ করতে পারবেন না। আমরা এসেছি এই কথাগুলো বলার জন্য। একটা সময় তো আমরাও আসবো না।’

খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে আইনজীবী হিসেবে প্রক্রিয়া কি হতে পারে বলে মনে করেন- এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘প্রক্রিয়া তো হতেই পারে। সরকারের কাছে আবেদন করা হতে পারে। সরকারের যদি সদিচ্ছা থাকে, তাহলে সরকার বিএনপি চেয়ারপারসনকে পাঠিয়ে দিতে পারে।’

পার্থ বলেন, ‘আমরা মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে যে প্রস্তাব দিয়েছি সেখানে প্রথম প্রস্তাব বলেছি, কোনো দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না। কারণ এতে প্রশাসন অনেক বেশি উৎসাহী থাকে।’

এক প্রশ্নে তিনি বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন যে সুষ্ঠু হয় না গত দুই নির্বাচনে সেটা প্রমাণিত।’

তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় প্রস্তাবে আমরা বলেছি, নির্বাচন কমিশন আইন করার বিষয়ে। ৫০ বছরের যা হয়নি সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক। যা করতে সব সময় সময়ের অজুহাত দেখানো হয়। আমরা সার্চ কমিটি নিয়ে কোন কথা বলিনি।’

আরও পড়ুন