পরীমণি মা হওয়ার খবরে ‘ব্যথিত’ তসলিমা, লিখলেন অনেক কথা

বিনোদন ডেস্ক- ঢাকাই ছবির আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি মা হতে যাচ্ছেন। তার সন্তানের বাবা হচ্ছেন অভিনেতা শরিফুল রাজ। সোমবার রাজ-পরীর এমন ঘোষণার পর ভক্ত অনুরাগীদের মধ্যে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া।

অনেকেই তাদের এমন আনন্দের খবরে অভিনন্দন জানিয়েছেন, আবার অনেকে হয়েছেন নাখোশ। পরীর সন্তান হওয়ার খবরটি যেন সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিনকেও ব্যথিত করেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেয়া তসলিমার ফেসবুক স্ট্যাটাসটি অন্তত সেই ইঙ্গিত-ই দিলো।

এরআগে পরীমনির আলোচিত ইস্যুগুলোতে নায়িকার সমর্থনে লিখতে দেখা গেছে তসলিমাকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব ভূমিকায় ছিলেন ‘আমার মেয়েবেলা’র এই লেখক।

পরীমনি সন্তানসম্ভবা হওয়ার খবরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেয়া তসলিমার স্ট্যাটাসটিতে ব্যাপক আলোচনা তৈরী করে। তবে মজার ব্যাপার হলো, পরীমনিকে কটাক্ষ করে তসলিমা এমন স্ট্যাটাস দিলেও পুরো স্ট্যাটাসের কোথাও তিনি পরীমনির নাম উল্লেখ করেননি।

স্ট্যাটাসে কী লিখেছেন তসলিমা, তা হুবুহু তুলে ধরা হলো:

‘সন্তান জন্ম দেওয়ার এত দরকার কেন? মেয়েরা, এমনকি প্রতিষ্ঠিত সমাজের নানা নিয়ম ভেঙে ফেলা সাহসী মেয়েরাও, ৩০ পার হলেই সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে। এই ব্যাকুলতা কতটা নিজের জন্য, কতটা পুরুষতান্ত্রিক রীতিনীতি মানার জন্য? আমি কিন্তু মনে করি নিজের জন্য নয়, মেয়েরা সন্তান জন্ম দিতে চায় সমাজের ১০টা লোকের জন্য। বাল্যকাল থেকে দেখে আসা শিখে আসা শুনে আসা ‘মাতৃত্বেই নারীজন্মের সার্থকতা’ জাতীয় বাকোয়াজ বাক্য মস্তিষ্কে কিলবিল করে বলেই মনে করে ইচ্ছেটা বুঝি নিজের।

সন্তান জন্ম দেওয়ার ইচ্ছে মানুষের ভেতর আপনাতেই জন্ম নেয় না, প্রক্রিয়াটি প্রাকৃতিকভাবে সম্পন্ন হয়ে যায় না। মানুষ ইচ্ছে করলেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, লাগাম টেনে ধরতে পারে গর্ভধারণের যাবতীয় বিষয়াদির। এখানেই পশুর সঙ্গে মানুষের পার্থক্য। মানুষ ভাবতে পারে, সিদ্ধান্ত নিতে পারে, সন্তান জন্ম দেওয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারে। যারা মূল্যবান কাজ করছে জীবনে, তাদের উচিত নয় অহেতুক শিশু জন্ম দিয়ে নিজের মূল্যবান সময় নষ্ট করা।

প্রতিপালনেই তো ব্যয় হয়ে যায় জীবনের অনেকটা সময়। এমন তো নয় যে এই গ্রহে মানুষ নামক প্রাণীর এত অভাব যে অচিরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে এই প্রজাতি। বিলুপ্ত হওয়া থেকে প্রজাতি বাঁচানোর দায়ই বা কেন আমাদের নিতে হবে! পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা প্রায় ৮০০ কোটি। এত ভিড়ের পৃথিবীতে আপাতত কোনো নতুন জন্ম কাঙ্ক্ষিত হওয়ার কথা নয়। কিন্তু মেয়েরা যদি ভেবে নেয় জন্ম না দিলে তাদের জীবনের কোনো অর্থ নেই, তাহলে তারা যে ভুল তা তাদের বোঝাবে কে!

সন্তানের জন্ম তারা দিতেই পারে যদি এমনই তীব্র তাদের আকাঙ্ক্ষা, তার পরও এ কথা ঠিক নয়, জন্ম না দিলে তাদের জীবনের কোনো অর্থ নেই। কোনো কোনো মানুষ তাদের জীবনকে শখ করে অর্থহীন করে। তা ছাড়া কারো জীবনই অর্থহীন নয়। বরং যে ভ্রূণ আজও জন্মায়নি, সে ভ্রূণ অর্থহীন। পৃথিবীর শিক্ষিত, স্বনির্ভর, সচেতন মেয়েরা সাধারণত বিয়ে করে না, সন্তান জন্মও দেয় না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *