আন্তর্জাতিক ডেস্ক- ভারতে নজিরবিহীন গতিতে বাড়ছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। এক সপ্তাহ আগেও যেখানে দেশটিতে দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা ১০ হাজারের ঘরে ছিল, সেখানে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৮৬ জনের শরীরে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। দেশটিতে এক দিনের ব্যবধানে নতুন রোগী বেড়েছে ২১ শতাংশ।
শনিবার সকালে ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, শনিবার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ভারতে মৃত্যু হয়েছে ২৮৫ জনের।
এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ভারতে ১ লাখ ১৭ হাজার ১০০ জনের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে সাত মাস পর ভারতে এক দিনে এক লাখের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়। এর আগে গত বছরের ৬ জুন ভারতে একদিনে ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৬০ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল।
ভারতে বর্তমানে সক্রিয় কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লাখ ৭২ হাজার ১৬৯। এখন পর্যন্ত মোট শনাক্ত হয়েছে ৩ কোটি ৫৩ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি। দেশটিতে দৈনিক সংক্রমণের হার ৯.২৮ শতাংশ। সুস্থতার হার ৯৭.৫ শতাংশ।
একই সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে ২৮৫ জনের মৃত্যু নিয়ে দেশটিতে মৃত্যুর মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৪৬৩ জন। শুক্রবার মারা গিয়েছিল ৩০২ জন।
করোনাভা্ইরাসের নতুন রূপ ওমিক্রন উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে ভারতে। দেশে ওমিক্রনে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়েছে। তাদের মধ্যে এক ২০৩ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
নভেম্বরের শেষে দক্ষিণ আফ্রিকায় শনাক্ত করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন পুরো বিশ্বেই আতঙ্ক তৈরি করেছে। ভারতের ২৮টি রাজ্যের মধ্যে ২৭টিতেই ছড়িয়ে পড়েছে এ ধরন।
ওমিক্রন আক্রান্তের দিক থেকেও শীর্ষে মহারাষ্ট্র। সে রাজ্যে মোট ৮৭৬ জন ওমিক্রনে আক্রান্ত হয়েছে। এর পরেই রয়েছে দিল্লি। দিল্লিতে মোট ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা ৫১৩।
ভারতের কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ-আইসিএমআর বলেছে, করোনাভাইরাসের ডেল্টা ধরনকে টেক্কা দিয়ে ওমিক্রনই এখন প্রাধান্য বিস্তার করছে ভারতজুড়ে।
সব থেকে বেশি কোভিড আক্রান্ত পাঁচটি রাজ্যের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে মহারাষ্ট্র। মহারাষ্ট্রে গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৪০ হাজার ৯২৫ জন আক্রান্ত হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে পশ্চিমবঙ্গে একদিনে আক্রান্ত হয়েছে ১৮ হাজার ২৩১ জন।
পশ্চিমবঙ্গের পরে আক্রান্তের অবস্থানে রয়েছে দিল্লি। দিল্লিতে একদিনে ১৭ হাজার ৩৩৫, তামিলনাড়ুতে ৮ হাজার ৯৮১ এবং কর্নাটকে ৮ হাজার ৪৪৯ জন শনাক্ত হয়েছে।
