নিরাপত্তা শঙ্কায় কক্সবাজার ছাড়ছেন পর্যটকরা

নজর২৪ ডেস্ক- কক্সবাজারে স্বামী-সন্তানকে জিম্মি করে নারী পর্যটককে সংঘবদ্ধ ধ র্ষ ণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে ওই নারীকে ধ র্ষ ণের ঘটনায় কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পর্যটকরা। তারা বলছেন, কক্সবাজার সৈকতের নিরাপত্তা কোথায়?

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন পর্যটক বলেছেন, সন্ধ্যা হলেই ভুতুড়ে এলাকা মনে হয়। কোনও লোকজন নেই। অপরাধী ও ছিনতাইকারীরা আড্ডা দেয়। জেলা পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের তৎপরতা আমাদের চোখে পড়ে না।

 

এদিকে নারী পর্যটককে সংঘবদ্ধ ধ র্ষ ণের ঘটনায় কক্সবাজারে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সাধারণ পর্যটকরা নিরাপত্তাহীনতা বোধ করছেন। তাদের অনেকেই নিরাপত্তা শঙ্কায় ভ্রমণ সংক্ষিপ্ত করে কক্সবাজার ছাড়ছেন।

 

বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) সরেজমিনে ঘুরে হোটেল মালিক ও পরিবহন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

 

বৃহস্পতিবার রাতে শহরের হোটেল-মোটেল জোনে কথা হয় ঢাকার উত্তরা থেকে আসা পর্যটক হাবিবুর রহমানের সঙ্গে। তিনি মা, স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে কক্সবাজার এসেছেন গত রোববার। সেন্ট মার্টিন ঘুরে আগামী শনিবার ঢাকায় ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু এখন তিনি তার সফর সংক্ষিপ্ত করছেন।

 

তিনি বলেন, আমি পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। তাই রাতেই ঢাকায় ফিরে যাচ্ছি।

 

কক্সবাজার ট্যুর অপারেটর (টুয়াক) সভাপতি আনোয়ার কামাল বলেন, বুধবার রাতের ধ র্ষ ণের ঘটনাটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। তবু পর্যটকরা আতঙ্ক বোধ করছেন।

 

পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়া প্রসঙ্গে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের অতিরিক্ত সুপার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে সচেষ্ট আছি।

 

ঝাউবাগান ও বিচে পর্যটকদের নিরাপত্তার অভাব আছে বলে যে অভিযোগ সেটি অস্বীকার করে মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঝাউবাগানের শৈবাল ও কবিতা চত্বরে পুলিশ বক্স রয়েছে। সেখানে পুলিশ নিয়মিত টহলে থাকে। সেখানে অপরাধীদের বিচরণ কিংবা আড্ডা দেওয়ার সুযোগ নেই।

 

র‌্যাব-১৫ কক্সবাজারের অধিনায়ক লে. কর্নেল খায়রুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘পর্যটক ধ র্ষ ণের বিষয়টি জানার পরপরই র‌্যাবের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। উদ্ধার হওয়ার পর ওই নারী র‌্যাবকে জানান, তার আট মাসের সন্তান ও স্বামীকে জিম্মি করে হত্যার ভয় দেখিয়ে জিয়া গেস্ট ইন হোটেলে ধ র্ষ ণ করেছিল। পরে ওই নারীকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেছি। র‌্যাব তদন্ত করে দুই জনকে শনাক্ত করেছে। তাদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।’

 

কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ সিপিসি কমান্ডার মেজর মেহেদী হাসান বলেন, পুরো ঘটনা তদন্ত করে এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ঘটনায় জড়িত দুই জনকে শনাক্ত করেছি। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জিয়া গেস্ট ইন হোটেলের ম্যানেজার রিয়াজ উদ্দিন ছোটনকে আটক করা হয়েছে। শনাক্তকারীদের ধরতে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত আছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *