নজর২৪ ডেস্ক- নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে এবারের নির্বাচনে কাউকে কোনোভাবে ভোটকেন্দ্র দখল করতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকার। বলেছেন, জীবন দিয়ে হলেও সমর্থকদের নিয়ে ভোটকেন্দ্র তখল ঠেকাবেন তিনি।
নগরীর মাসদাইরে নিজ বাসভবনে বুধবার (২২ ডিসেম্বর) রাতে বিএনপির শ্রমিক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মত বিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তৈমূর।
আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে কেন্দ্র দখল করবে, আর চেয়ে চেয়ে দেখব এবং সাংবাদিকদের স্টেটমেন্ট দেবো কেন্দ্র দখল করে নিয়ে গেছে, তা হবে না। জীবন দিয়ে হলেও রক্ষা করব।’
বিএনপি থেকে আগেই জানানো হয়, তারা বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে তারা অংশ নিচ্ছেন না। তবে স্বতন্ত্র ব্যানারে ঠিকই এই নির্বাচনে বিএনপির উপস্থিতি রয়েছে।
মেয়র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক তৈমূর। তাকে সমর্থন দিয়েছেন নারায়ণ জেলা বিএনপির বেশির ভাগ নেতা-কর্মীই।
শ্রমিক দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তৈমূর বলেন, ‘আমি কখনও কর্মী ফেলে দৌড় দেই না। আর কর্মীরা আমাকে ছেড়েও দৌড় দেয় না। কর্মীরা বুঝে তৈমূর আলম দৌড় দেবে না। আমি রাজনীতিতে যোগদান করার আগে শ্রমিকদের সঙ্গে থাকতাম। কারণ, তারা খেটে খাওয়া মানুষ। এই নির্বাচনে আপনারা শ্রমিকরা সকলে আমার পাশে থাকবেন।’
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ভোটার ৫ লাখ ১৭ হাজার ৩৫৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৯ হাজার ৮৩৪ জন, নারী ২ লাখ ৫৭ হাজার ৫১৯ ও তৃতীয় লিঙ্গের ৪ জন। ভোটগ্রহণের জন্য মোট কেন্দ্র রয়েছে ১৮৭টি এবং এর মধ্যে ভোট কক্ষ ১৩০১টি। এছাড়া অস্থায়ী ভোট কক্ষের সংখ্যা ৯৫টি। এবার নতুন ভোটারের অধিকাংশই তরুণ। আগামী বছরের ১৬ জানুয়ারি নাসিক নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে গত সোমবার জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত নির্বাচন কমিশনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে মেয়র পদে ৬ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন, আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী সেলিনা হায়াত আইভী, স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকার, খেলাফত মজলিসের মেয়র প্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা মো. মাসুম বিল্লাহ ও বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির প্রার্থী মো. রাশেল ফেরদৌস।
