বিনোদন ডেস্ক- প্রথমবারের মতো ভিসা পেয়েই স্বপ্নের দেশে পাড়ি দিয়েছেন শাকিব খান। শুরুতে ১০ দিনের কথা বললেও এখনও দেশে ফেরেননি তিনি। এরপরই গুঞ্জন উঠে, দেশ ছেড়ে মার্কিন মুলুকে স্থায়ী হচ্ছেন শাকিব খান। নতুন সিনেমা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এক জাতীয় দৈনিকের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়া নিয়ে শাকিব খান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার কিছু নেই। বাংলাদেশে থাকতেই আমার ছেলে আব্রাম খান জয়সহ আবেদন করা হয়েছিল। আসা যাওয়ার মধ্যেই থাকব। বড় বড় তারকারা বিভিন্ন দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন। যেমন- শাহরুখ খানের মেয়ে ম্যানহাটনে লেখাপড়া করেন, সময় পেলে এখানে অবকাশ যাপন করেন। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া এখানে রেস্টুরেন্ট খুলেছে। বিশ্বব্যাপী ব্যবসা-বাণিজ্য করতে হলে বিষয়গুলো বড় করে ভাবতে হবে। আর এটা নিয়ে যারা গসিপ করছে, তাদের কথা আমি এই মুহূর্তে ভাবছি না।
একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে নতুন সিনেমার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কাজ কতদূর? তিনি বলেন, এখন প্রি প্রোডাকশনের কাজ চলছে। প্রতিদিনই মিটিং করছি। জানুয়ারির শেষে শুটিং শুরু হবে ফেব্রুয়ারিতে শেষ হবে। মার্চে ঢাকায় কয়েকদিনের কাজ চলবে। রোজার ঈদে বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী মুক্তি দেওয়া হবে। গল্পটাও সুন্দর। বিগ বাজেটেই সিনেমাটি করতে যাচ্ছি।
হঠাৎ যুক্তরাষ্ট্রে সিনেমা তৈরির পরিকল্পনা করলেন কেন? শাকিব খান বলেন, বাংলাদেশের সিনেমা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যই এই উদ্যোগ নিয়েছি। বিশ^বাজারে সিনেমার ব্যবসা করতে হলে বিদেশ ঘুরতে হবে। এখানে আসার পর যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ইউরোপ ও মধ্যেপ্রাচ্যর সিনেমা ডিস্ট্রিবিউটরদের সঙ্গে কথা হয়েছে। কাজ করার সাহসও পেয়েছি। বলিউডের সিনেমা দেশের চেয়ে বিদেশের আয় বেশি। চীনে আমির খানের ‘দঙ্গল’ সিনেমাটি হাজার কোটি টাকা আয় করেছে। শুরু করলাম। ধীরে ধীরে আমাদের সিনেমা বিভিন্ন ভাষায় হাজার স্ক্রিনে মুক্তি পাবে। আমি সেই স্বপ্নই দেখছি।
অনেকেই বলছেন, শাকিবের কারণে সিনেমার আজকের এই অবস্থা। এ নিয়ে ঢাকাই সিনেমার শীর্ষ বলেন, আমাকে নিয়ে যারা কথা বলছেন, চলচ্চিত্রে তাদের অবস্থান কী? আমি কি কারও সিনেমা রিলিজ আটকে দিয়েছি, নাকি সিনেমা করতে দিচ্ছি না। যারা কাজ করতে পারে না, তারাই বেশি কথা বলে। আমি আগেও তাদের কথা আমলে নিইনি। এখনও নিচ্ছি না। নিন্দুকের কাজই নিন্দা করা। নতুন বছরটা আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং। সিনেমায় দর্শকদের নতুনত্ব দেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।
আগামী শিল্পী সমিতির নির্বাচন নিয়ে বলেন, এবার অনেক সিনিয়র শিল্পীরা নির্বাচন করার জন্য বলেছেন। কিন্তু এই নির্বাচন নিয়ে আমার কোনো আগ্রহ নেই। আমি পরপর দুবার নির্বাচিত সভাপতি হয়েছিলাম। এখন সিনেমা কীভাবে ভালো করা যায় এটা নিয়েই ভাবছি।
যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য বেশ কয়েকবার ভিসার আবেদন করেছিলেন শাকিব খান। কিন্তু একবারও তা গৃহীত হয়নি। অবশেষে গত নভেম্বরে দেশটির ভিসা পান তিনি। এরপর ১২ নভেম্বর উড়াল দেন। বাইডেনের দেশে গিয়ে চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস ও ঢালিউড ফিল্ম অ্যান্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন শাকিব।
