মহুয়ার মামলার ২ দিন আগেই বিচারপতির ছেলের জিডি নেয় পুলিশ

নজর২৪ ডেস্ক- এক বিচারপতির ছেলের প্রাইভেটকারের চাপায় পা হারিয়েছেন বিজিবির অবসরপ্রাপ্ত সদস্য মনোরঞ্জন হাজং। হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতড়াচ্ছেন। তার মেয়ে ট্রাফিক পুলিশের সার্জেট মহুয়া হাজংয় দ্বারে দ্বারে ঘুরে দুই সপ্তাহ পর থানায় মামলা করতে সক্ষম হন। কিন্তু তার দুইদিন আগেই মহুয়ার বাবার বিরুদ্ধে উল্টো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ওই বিচারপতির ছেলে। মনোরঞ্জনের ওপরই দুর্ঘটনার দায় চাপিয়ে এই জিডি করা হয়।

 

জানা যায়, গত ২ ডিসেম্বর রাতে বনানীর চেয়ারম্যানবাড়ী সড়কে ওই দুর্ঘটনায় পা হারান বিজিবির সাবেক সদস্য মনোরঞ্জন। তিনি এখনও সংকটাপন্ন। এ ঘটনায় মামলা নিতে গড়িমসি করে পুলিশ। অভিযোগ উঠে, সাঈদ হাসান একজন বিচারপতির ছেলে হওয়ায় ভুক্তভোগীর মামলা নিচ্ছে না পুলিশ।

 

ব্যাপক সমালোচনার মুখে গত ১৬ ডিসেম্বর মামলাটি নথিভুক্ত করে বনানী থানা। কিন্তু এর দুদিন আগেই সাঈদ হাসানের জিডি নেওয়া হয়। যদিও তা জানা যায় চারদিন পর শনিবার। বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আজম মিয়া জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

জিডিতে সাঈদ হাসান বলেছেন, তার গাড়ি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়নি। বরং বেআইনিভাবে উল্টো দিক থেকে মনোরঞ্জনই তার গাড়িতে লাগিয়ে দেন। এতে তিনি ও তার স্ত্রীর ‘প্রাণহানির মতো’ অবস্থা তৈরি হয়েছিল। উল্টোপথে মোটরসাইকেল চালানোর জন্য দুর্ঘটনার দায় মনোরঞ্জনের ওপরই বর্তায়।

 

সেদিনের ঘটনার বর্ণনায় তিনি উল্লেখ করেন, রাত ২টার দিকে তিনি কামাল আতাতুর্ক সড়ক হয়ে কাকলী চৌরাস্তা হয়ে বামে মোড় নিয়ে চেয়ারম্যানবাড়ীর ইউলুপে আসেন। তখন উল্টো দিক থেকে ইউলুপে প্রবেশ করা একটি মোটরসাইকেলের সামনের অংশ ও হেডলাইট তার গাড়ির বনেটের বাম পাশের হেডলাইট বরাবর আকস্মিক ধাক্কা দেয়। গাড়িটি সেখানেই প্রাচীরে লেগে যায়। এতে তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও তার স্ত্রীর ডান হাতের তিনটি আঙুল ভেঙে যায়। তিনি কাঁধে ব্যথা পান। রাতেই তিনি স্ত্রীকে নিয়ে ইউনাইটেড হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান। পুরো ঘটনা সড়কের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে আছে।

 

জিডিতে তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার পর মনোরঞ্জন হাজংকে গ্রীনলাইফ হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। দুই দফায় আর্থিক সহযোগিতাও করেন। পরে তারা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা, কেবিন বরাদ্দ, এমনকি মেডিকেল বোর্ড গঠনেরও ব্যবস্থা করেন তিনি।

 

এদিকে জিডি প্রসঙ্গে ভুক্তভোগীর মেয়ে সার্জেন্ট মহুয়া সাংবাদিকদের বলেন, তিনি আমার বাবাকে গাড়ি চাপা দিয়েছেন, আবার তিনিই উল্টো জিডি করেছেন। তিনি যে কতটা প্রভাবশালী, তা আরেকবার প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন। ঘটনার এত পরে জিডি করার পেছনে তার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *