বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বাদ: যা বললেন কুমিল্লার মেয়র সাক্কু

নজর২৪ ডেস্ক- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ভার্চ্যুয়ালি কুমিল্লা বিভাগের নেতাদের মতবিনিময় সভায় যোগ দেননি কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. মনিরুল হক। এটি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য পদ থেকে তাঁর অব্যাহতির পটভূমি তৈরি করেছে বলে তিনি মনে করেন।

 

সম্প্রতি আলোচনায় আসা তাঁর অব্যাহতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি গতকাল মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন।

 

সদস্য পদ থেকে অব্যাহতির পটভূমি প্রসঙ্গে মেয়র মনিরুল হক বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ভার্চ্যুয়ালি কুমিল্লা বিভাগের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যদের মতবিনিময় সভা ছিল। আগে থেকেই ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলারের সঙ্গে কুমিল্লায় আমার সাক্ষাতের সময় নির্ধারিত ছিল। এ কারণে ঢাকায় জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় উপস্থিত থাকতে পারিনি। পরে আমাকে দল থেকে কারণ দর্শাতে বলা হয়। আমি কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিই।

 

এরপর দল থেকে জানানো হয়, আমার জবাব দলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। পরবর্তীকালে ২৮ অক্টোবর চিঠি দিয়ে জানানো হয়, আমাকে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তখন আমি ওমরাহ হজ পালনে সৌদি আরবে ছিলাম। ২ নভেম্বর ফিরে এসে অব্যাহতির বিষয় জানতে পারি। চিঠি পাই।’

 

মেয়রের দাবি, সামনে সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, ‘অব্যাহতি দিয়েছে অন্তত দেড় মাস আগে। এখন এটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। দলের অন্য অনেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়েছেন, সেগুলো নিয়ে কোনো মাতামাতি নেই। সামনে সিটি করপোরেশন নির্বাচন। ওই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি মহল আমার পেছনে লেগে আছে।’

 

তবে অব্যাহতির বিষয়টিকে মনিরুল হক স্বাভাবিকভাবে নিয়েছেন বলে জানালেন। তিনি বলেন, ‘পার্টি ভালো মনে করেছে, তাই বাদ দিয়েছে। আমি তো আতকা বিএনপির রাজনীতি করি না। ধীরে ধীরে তৃণমূল থেকে রাজনীতি করে এ পর্যন্ত এসেছি। আমার প্রত্যক্ষ–পরোক্ষ সহযোগিতা ও উপস্থিতিতে কুমিল্লায় দলীয় সব কর্মসূচি হচ্ছে। এখনো আমি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি চক্র আমার পেছনে লেগে আছে। তাঁদের সঙ্গে জনগণের, তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও কুমিল্লাবাসীর কোনো যোগাযোগ নেই। তাঁরা কুমিল্লায় থাকেনও না।’

 

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মনিরুল হককে পাঠানো চিঠিতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী উল্লেখ করেছেন, ‘ইতিপূর্বে দলীয় কর্মসূচিতে আপনার অংশগ্রহণ সন্তোষজনক না হওয়ায় অব্যাহতি দেওয়া হলো।’

 

দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্কুর কোনো যোগাযোগ নেই এবং অধিকাংশ দলীয় কর্মকাণ্ডে তিনি অংশ নেন না বলে বিএনপি কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *