আমার এত বড় সুনাম নষ্ট হলো: মিথিলা

বিনোদন ডেস্ক- আলোচিত-সমালোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘ইভ্যালির’ কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগে অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গত ৪ ডিসেম্বর ধানমন্ডি থানায় মামলাটি করেন সাদ স্যাম রহমান নামের ইভ্যালির এক গ্রাহক। মিথিলা প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ‘ফেস অব ইভ্যালি লাইফস্টাইল’ হিসেবে যুক্ত ছিলেন।

 

এ মামলায় অন্য আসামিদের মধ্যে আছেন সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান খান এবং অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান সাংবাদিকদের জনান, এ মামলায় যে কোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন তাহসান-মিথিলা-ফারিয়াসহ অন্য আসামিরা।

 

এই মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে মিথিলা বলেন, আমি মানুষের ফোন বা পত্রিকা মারফত জেনেছি যে আমার নামে মামলা হয়েছে। মামলা হলে তো লিগ্যাল নোটিশ পাঠাবে। সেই নোটিশ তো এখনো পাইনি। এ জন্য কীভাবে বিষয়টি দেখছি, এখন বলতে পারছি না।

 

মিথিলা আরও বলেন, ‘ইভ্যালির কারণে আমার প্রফেশনাল একটি ঝামেলা হলো, আমি তো একজন পাবলিক ফিগার। সবাই জানেন আমরা কেমন। এই মামলার কারণে আমার পেশা, আমার সম্মানের জায়গায় খুঁত তৈরি হলো। আমার এত বড় সুনাম নষ্ট হলো। তবে শুধু এই মামলা নয়, ইভ্যালির পুরো ঘটনাটাই আমাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগতভাবে সম্মানহানি করেছে। এ কারণে আমি মনে করি, আমি নিজেও প্রতারিত হয়েছি।

 

তিনি বলেন, আমরা তো এখান থেকে কোনো বেনিফিট পাইনি। বরং আমাদের ভাবমূর্তির ক্ষতি হয়েছে। তারা মনে করছেন যে প্রতারিত হয়ে আমাদের দোষী করা যায়, কিন্তু সম্মানের দিক থেকে আমরাও প্রতারিত হলাম। ইভ্যালিতে এ ধরনের সমস্যা হতে পারে, সেটা আমরাও জানতাম না। কোম্পানির সমস্যার কারণে মামলার আগেই আমাদের আগে ক্ষতি হয়েছে। কারণ, যে কদিনই হোক, আমরা তো প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ছিলাম। এ কারণে মামলার বাদীর মতো আমরাও পেশাগত দিক থেকে অসম্মানিত ও প্রতারিত হয়েছি।

 

অভিনেত্রী বলেন, খুবই কষ্ট পেয়েছি। আমি জীবনে অনেক কোম্পানির ব্র্যান্ড এনডোর্স করেছি। কখনো এমন ঘটনার মুখোমুখি হইনি। শিল্পী বা মডেলরা কোনো ব্র্যান্ড এনডোর্সের সময় কোম্পানির ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্ট দেখে না। কিন্তু এটি তো ঠিক যে ইভ্যালি একটি বড় ব্র্যান্ড হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সংস্থাকে বিভিন্ন জায়গায় প্রোমোট করেছে। আমাদের সঙ্গে চুক্তি করা হয় কতটি বিজ্ঞাপন, কতটি ফটোশুট করা হবে, সেসবের ওপর ভিত্তি করে। আমরা শিল্পী, আমাদের ওপর মানুষের আস্থা আছে, মানুষ ফলো করেন। ব্র্যান্ডের নাম ছড়ানোর জন্য আমাদের যুক্ত করা হয়। এর আগে অনেক বড় বড় ব্র্যান্ড এনডোর্স করেছি, এখনো ব্র্যান্ড এনডোর্স করে যাচ্ছি। এসব কোম্পানির যদি কোনো ফাইন্যান্সিয়াল ইস্যু থাকে বা কোম্পানির কোনো ফল্ট থাকে, সে জন্য তো আর্টিস্টকে দায়ী করা যায় না। এসব বলে বোঝানো কঠিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *