নজর২৪ ডেস্ক- কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন বক্তব্যের জেরে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেই ডা. মুরাদ হাসান দেশ ছাড়েন। এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে কানাডা পৌছালেও তাকে টরন্টো পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। কানাডার বর্ডার সার্ভিস এজেন্সি তাকে দেশটিতে ঢুকতেই দেয়নি।
এ তথ্য নিশ্চিত করে কানাডা থেকে প্রকাশিত অনলাইন পোর্টাল ‘নতুন দেশ’ । এতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি ও কানাডিয়ান নাগরিক কানাডায় ডা. মুরাদের প্রবেশের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে সরকারের কাছে আবেদন করেন। এই আবেদনের প্রেক্ষিতেই তাকে কানাডা প্রবেশে বাঁধা দেওয়া হয়।
মুরাদ হাসানের কানাডায় প্রবেশের চেষ্টা সম্পর্কে দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খলিলুর রহমান বলেন, তিনি এদেশে এসেছেন কিনা, ঢুকতে পেরেছেন কিনা কিংবা ঢুকতে পারলে কোথায় আছেন; এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনও তথ্য নেই।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার তার সফর সম্পর্কে দূতাবাসকে কিছু জানায়নি। এর আগে তিনি প্রতিমন্ত্রী হিসাবে কানাডা সফরকালে আমাদের অবহিত করা হয়েছিল। মুরাদ হাসান এখন সংসদ সদস্য। অনেক সময় সংসদ সদস্যরা কানাডা সফর করলে আমাদের জানান বিভিন্ন ধরনের প্রটোকল সুবিধার জন্য। কিন্তু মুরাদ হাসান তার সফর সম্পর্কে আমাদের কিছু জানাননি।
কানাডার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনও তথ্য দেয়নি উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, কানাডার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ আছে। অন্য কোনও কিছু হয়ে থাকলে (ঢুকতে বাধা দেওয়া হলে) আমাদের অবশ্যই জানানো হতো। কানাডায় বাংলাদেশি কেউ বিপদে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ আমাদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করেনি।
তিনি আরও বলেন, মুরাদ হাসানের কানাডা সফর সম্পর্কে বিভিন্ন খবর আমরা পত্রিকায় দেখেছি। একটি পত্রিকা বলছে তাকে ইমিগ্রেশনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আবার আরেকটি পত্রিকা বলছে তিনি মন্ট্রিলে আছেন।
এদিকে টরেন্টোর পিয়ারসন এয়ারপোর্টে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি সূত্র জানিয়েছে, কানাডা ইমিগ্রেশন পুলিশ ডা. মুরাদকে থেকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফিরতি ফ্লাইটে তুলে দেয়, তাকে বহনকারী ফ্লাইটটি দুবাইতে ফেরত গেছে। আবার প্রবাসীদের অপর একটি সূত্র দাবি করেছে, মুরাদ হাসান বর্তমানে মন্ট্রিয়লে অবস্থান করছেন।
ডা. মুরাদ হাসানের ঘণিষ্ঠজনরা সদ্য সাবেক এ প্রতিমন্ত্রীর অবস্থান প্রসঙ্গে মুখে কুলুপ এটেঁছেন। সব মিলিয়ে তার অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
সম্প্রতি কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে দেশজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েন সদ্য সাবেক তথ্য সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান। সর্বশেষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সঙ্গে চিত্রনায়ক ইমন ও চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির ফোনালাপ ফাঁস হয়। সেখানে তিনি মাহিকে উদ্দেশ করে হুমকি ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে তুলে আনার ধমকি দেন।
অশালীন, শিষ্টাচারবহির্ভূত, নারীর প্রতি চরম অবমাননাকর বক্তব্য প্রদান এবং এক চিত্রনায়িকার সঙ্গে অশালীন ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর গত সোমবার জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য মুরাদ হাসানকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর মঙ্গলবার তিনি পদত্যাগ করেন। সেদিন রাতেই তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের এক জরুরি সভায় মুরাদ হাসানকে জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার তাকে সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে মুরাদ হাসানকে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য পদ থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়।





