সুযোগ পেয়ে এবার মুরাদকে ধুয়ে দিলেন হিরো আলম

বিনোদন ডেস্ক- রাষ্ট্রধর্ম ও ৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাওয়া নিয়ে বক্তব্য দিয়ে প্রথম আলোচনায় এসেছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। এরপর বিভিন্ন বিষয়ে একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন তিনি।

 

সর্বশেষ রোববার রাতে এক চিত্রনায়িকার সঙ্গে অশ্লীল কথোপকথনের অডিও ভাইরাল হলে সেই সমালোচনার ঝড় আরও তীব্রতর হয়। এমন প্রেক্ষাপটে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে ডা. মুরাদ হাসানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

 

এদিকে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পদ হারানোর পর ডা. মুরাদ হাসান বেশ বিপাকে রয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ তাকে নিয়ে ট্রল করছেন। প্রতিমন্ত্রী থাকা অবস্থায় ডা. মুরাদ চিত্রনায়িকা মৌসুমী ও শাকিব খানকে নিয়েও বেফাঁস মন্তব্য করেছিলেন। শুধু তাই নয় সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচিত নাম হিরো আলমকে নিয়েও নানা কটূ কথা বলেছিলেন তিনি।

 

এবার সুযোগ বুঝে প্রতিমন্ত্রীর সেই বেফাঁস মন্তব্য নিয়ে প্রতিবাদী হয়ে উঠলেন হিরো আলম। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিওতে ডা. মুরাদকে ধুয়ে দিলেন তিনি।

 

ভিডিওবার্তায় হিরো আলম বলেন, ‘সমালোচনা করাই ডা. মুরাদের কাজ। তিনি মনে করেন তিনিই একমাত্র শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি, বাকি সবাই নিম্নশ্রেণির লোক। তার মতে আমার গান নাকি নিম্নশ্রেণির লোকদের কাছে শোভা পায়। আমার চেহারা নিয়েও কথা বলেছেন।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘ডা. মুরাদ অনেক দিন ধরে বড় বড় সব হিরো-হিরোইনদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করে যাচ্ছেন। শাকিব ভাই, মৌসুমী আপু, মাহির মতো বড় তারকাদের নিয়ে তিনি বাজে মন্তব্য করেছেন। মানুষ সবাই আল্লাহর সৃষ্টি। মানুষ মানুষকে যদি ঘৃণা করে তার চেয়ে বড় খারাপ কাজ আর নেই।’

 

গানের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমি সংগীতশিল্পী নই, আমি সখের বশে গান করি। গুলশান ১-এর যে অনুষ্ঠানের কথা তিনি বললেন, সে অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে আমার দেখাই হয়নি। উনি মিথ্যা বলছেন কি না, জানি না।’

 

ডা. মুরাদকে বহিষ্কার করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘উনাকে শুধু বহিষ্কার না, আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। কারণ তিনি নারী জাতিকে কলঙ্কিত করেছেন। ক্ষমতা পেয়ে তিনি কথায় কথায় ক্ষমতার বল দেখান, মেয়েদের জিম্মি করে ব্যবহার করেন।’

 

ডা. মুরাদকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না করলে অন্যান্য এমপি-মন্ত্রীদের সাহস আরও বেড়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। হিরো আলমের ভাষ্য, ‘বেশি বাড়লে মানুষের পতন হয়, এর প্রমাণ এই ডা. মুরাদ। আমার এবং অন্যদের চেহারা নিয়ে তিনি যে মন্তব্য করেছেন তার জন্য আমি সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা করব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *